
মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল (রাজশাহী) : যে জাতি তার গর্বিত সন্তানদের স্বীকৃতি দিতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অহংকারী না হয়ে বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে রাজশাহী কলেজ তাদের যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।

আজ রবিবার (৩১ মে) রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করে এই মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে।”
রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্যবাহী মাঠের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, “এখান থেকে অনেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে।

প্রয়োজনে এই মাঠটি সংস্কার করে আরও সুন্দর ও আধুনিক করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করেছেন, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। রাজশাহী কলেজসহ সমগ্র রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

এছাড়াও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন তার বক্তব্যে বলেন, দেশ গঠন, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এমপি।
তিনি বলেন আজকের তরুণরাই আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
শুধু রাজশাহী নয়, সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করতে এই তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেওয়ার জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান এমপি।
শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে এমপি মিলন বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই সবচেয়ে বেশি জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে— যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করা, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি এবং সার্বিকভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন।
যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে বিদেশে অবস্থান করলেও শেকড়কে ভুলে না যাওয়ার পরামর্শ দেন এমপি। মিলন বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থাকে মনে ধারণ করতে হবে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।
বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এমপি বলেন, জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সরকার ও জনগণের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ স্থাপন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিতে হবে।
পরিশেষে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, রাষ্ট্রের যেসব জায়গায় ‘জং’ ধরেছে বা কিছুটা বিকৃতি ঘটেছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
দেশের মানুষের স্বার্থে, একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্যে অতীত ও বর্তমানের সফল মানুষদের সাথে নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান এমপি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইউনুছ আলী, রাজশাহী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক
প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান,
রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি চৌধুরী সাইদুর রহমান কোয়েল, রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ তাহাসিনা শামীম তাসু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোট ৩৪২ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, ৮১ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) ৬৬ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ জন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৯ জন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫ জন।
সংবর্ধনা প্রদান ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে এক ফটোসেশনে মিলিত হন।
