কুড়িগ্রামে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর সারাদেশ

রফিকুল ইসলাম রফিক, (কুড়িগ্রাম)  :  কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নারীসহ তিনজনকে কুপিয়ে আহত করারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি উপজেলার মধুপুর এলাকায় ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার রোববার (৩১ মে) উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের আলশিয়া শেখের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৬৮)-এর সঙ্গে তার ছোট ভাই আব্দুর রহমানের (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রসহ আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ২৫০ মণ ধান, আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি এবং নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। খবর পেয়ে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা আবু বক্কর সিদ্দিক, তার স্ত্রী সাহিদা বেগম এবং ছেলে ফুল মিয়াকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে চেয়ারম্যান এরশাদুল হককে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “কোনো ধরনের উসকানি বা ঘটনা ছাড়াই চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আমার স্ত্রী সাহিদা বেগমকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। লুট হওয়া মালামাল ফেরত না পেলে আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ব।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক। মুঠোফোনে তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি আমার নিজ বাড়িতে ছিলাম। কোনো কারণে আবু বক্কর সিদ্দিক আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ অভিযোগ করতে পারেন। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে পুলিশ তিনজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে। এর মধ্যে সাহিদা বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে। অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

👁️ 24 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *