২)৪১১বোতল কথিত ফেন্সিডিলসহ তিনজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

সুমন শাহ্ : র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে অদ্যবধি হত্যা মামলার আসামি, মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অপহরণকারী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও প্রতারকচক্র গ্রেফতারে সদা তৎপর রয়েছে। স্পর্শকাতর ঘটনা এবং অস্ত্র মামলার সাথে জড়িত আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে।


বিজ্ঞাপন

গত ঈদ-উল-আযহার প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে ভিকটিম আব্দুল মান্নান (৩০) তার বন্ধু এবং হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো: রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘা (২৭) এর সাথে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল ৭ জুন  দুপুর আনুমানিক ১ টার সময়  ভিকটিম আব্দুল মান্নান দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে মীর হাজিরবাগ মেসে যাওয়ার পথে আসামি রাজন দেওয়ান সুমন’সহ অপরাপর আসামীগণকে একজন পাগলকে মারধর করতে দেখলে ভিকটিম আব্দুল মান্নান তাদের’কে নিষেধ করেন।

সে সময় আসামিরা ভিকটিম আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায় আসামি রাজন দেওয়ান সুমন পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে ভিকটিম আব্দুল মান্নান’কে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম পা বরাবর নিতম্বের নিচে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।


বিজ্ঞাপন

এতে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ভিকটিম’কে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় ভিকটিমের বড় বোন বাদী হয়ে ডিএমপি, ঢাকার গেন্ডারিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে গেন্ডারিয়া থানার মামলা নং- ০৭, তারিখ- ০৮/০৬/২০২৬ খ্রি. ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০ রুজু হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচনপত্র প্রেরণ করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৮/০৬/২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ০১.১০ ঘটিকায় র‌্যাব-১০ এর আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় অন্যতম প্রধান আসামি মো: রাজন দেওয়ান সুমন ওরফে বাঘা (২৭), পিতা- মৃত মনির হোসেন, সাং- নামাপাড়া, থানা- গেন্ডারিয়া, ডিএমপি, ঢাকা’কে গ্রেফতার করে।

অপর আরেকটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০, সিপিসি-১, যাত্রাবাড়ী ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল রাজধানীর কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৪১১ (চারশত এগারো) বোতল কথিত ফেন্সিডিল, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৬,৪৪,০০০/- (ষোল লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা)’সহ তিনজন পেশাদার নারী মাদক ব্যবসায়ী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী ও অন্যান্য এলাকা থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসত এবং বিভিন্ন মাদকসেবী ও খুচরা বিক্রেতার নিকট অধিক মূল্যে বিক্রি করত।

এই অভিযান র‌্যাব‑১০ এর নিরবিচ্ছিন্ন গোয়েন্দা কাজ, সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া ও দক্ষতার নিদর্শন। মাদক উদ্ধারসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম উন্মোচনে এটি একটি প্রশংসনীয় উদাহরণ। আপনার কাছে যদি কোথাও অবৈধ অস্ত্র, মাদকের বেচাকেনা বা অপরাধমূলক কার্যকলাপের তথ্য থাকে, তাহলে দয়া করে তা র‌্যাবকে অবহিত করুন। আপনার একটি তথ্য একটি পরিবার বা জীবনের রক্ষাকবচ হতে পারে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। র‌্যাব-১০ এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

👁️ 27 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *