খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলা, আহতরা খুমেক হাসপাতালে

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, (খুলনা)  :  খুলনা নগরীর ময়লাপোতা সংলগ্ন ইকবালনগর এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা।


বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার রায়হানসহ কয়েকজন আহত হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইকবালনগর রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে নির্মাণকাজ চলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হামলার ঘটনায় রূপ নেয়। এতে সাংবাদিক রায়হানসহ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী আবুল হাসান মোল্লা জানান, বানিয়াখামার মৌজার প্রায় সাড়ে ১০ কাঠা জমি নিয়ে তাদের পরিবারের মধ্যে প্রায় ৩৭ বছর ধরে বিরোধ চলছে।

এ বিষয়ে ১৯৮৯ সালে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করা হয়। পরে ১৯৯৭ সালে এবং ২০০৪ সালে আপিলেও বাদীপক্ষের অনুকূলে রায় আসে। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে (মামলা নং-৩৬১/১৬)।

তার অভিযোগ, বিচারাধীন অবস্থায় এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা ও আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা ওরফে গুটু বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, গত ২০ এপ্রিল খুলনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং ২৭ এপ্রিল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এছাড়া ১৭ মে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর কাছেও অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি। কেডিএর কর্মকর্তারাও বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিতে নতুন দেয়াল নির্মাণ, মাটি ভরাট ও ঢালাইয়ের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ওই এলাকায় কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় কাঠের কারখানা পরিচালনার কারণে শব্দ ও বায়ুদূষণ সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ২০২৪ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অমান্য ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীরা বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

👁️ 28 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *