
নইন আবু নাঈম তালুকদার (শরণখোলা) : বাগেরহাটের শরণখোলায় পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড শরণখোলা জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে গ্রাহকের মিটার না দেখেই মনগড়া ও ভুতুড়ে বিল করে গ্রাহকদের হয়রানির করার অভিযোগ উঠেছে। আর এতে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছে তারা এমন অভিযোগ গ্রাহকদের। গ্রাহকরা বলেন কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এসব বিল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগে যে পরিবারের মাসিক বিল আসতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, বর্তমানে সেখানে তাদের গুনতে হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

রোববার (২৮ জুন) সকালে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা মেলে। কার্যালয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শতাধিক ভুক্তভোগী নারী-পুরুষকে একই অভিযোগ নিয়ে ভিড় করতে দেখা যায়। অতিরিক্ত বিলের বোঝা আর হয়রানির কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ের মিটার রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং সংগ্রহ করেন না। তারা অফিসে বসেই ইচ্ছেমতো ইউনিট বসিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিলের অঙ্ক স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার গুণ বেড়ে গেছে।

অফিসে অভিযোগ নিয়ে আসা রায়েন্দা বাজারের গ্রাহক আফরোজা সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগে তার সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৫০ ইউনিটের বিল আসতো। অথচ এবার মিটার না দেখেই মনগড়াভাবে ২০০ ইউনিটের ১ হাজার ৬৭৩ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া রাজৈর গ্রামের কবির মল্লিকের আগের ১৮০-২০০ টাকার বিলের জায়গায় মে মাসে এসেছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। উত্তর তাফালবাড়ির হামিদা বেগমের ৮০০ টাকার বিল আসার পর অভিযোগ করলে তা সংশোধন করে ২০০ টাকা করা হয়। গোলবুনিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন গাজীর নিয়মিত ৬৫০-৭০০ টাকার বিলের জায়গায় ১ হাজার ৪৯০ টাকা।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে উপজেলার রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের ক্ষেত্রে। তার নিয়মিত ৩৫-৫০ ইউনিটের স্থলে ৩২৫ ইউনিটের বিল প্রদান করে কর্তৃপক্ষ। পরে অফিসে নিয়ে আসলে তাৎক্ষণিক তা সংশোধন করে ৪৫ ইউনিটে নামিয়ে আনা হয়।
এ বিষয়ে শরণখোলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার বলেন, তিনি এখানে ২/৩ মাস আগে যোগদান করেছেন। কোনো গ্রাহকের বিলে অসঙ্গতি থেকে থাকলে, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা যাচাই-বাছাই করে দ্রুত সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসকল বিলের সাথে কোন মিটার রিডার যদি অনিয়ম করে থাকে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
