​গোপালগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন: আধুনিক চিকিৎসা সেবা চালুর অঙ্গীকার

Uncategorized খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ স্বাস্থ্য

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী  :  গোপালগঞ্জে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ২৮ জুন (রবিবার) সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।


বিজ্ঞাপন

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার দেশের স্বাস্থ্য খাতের অতীত বিপর্যয় এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শিশুদের হামের টিকা কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ার কারণে ৬০০ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছিল। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতির কারণেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে।” তিনি জানান, এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং শিশুদের সুরক্ষায় গোপালগঞ্জে ১ লক্ষ ৭৬ হাজারেরও বেশি শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা হয়েছে। ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। অতীতের স্মৃতি চারণ করে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে রাতকানা রোগ দূরীকরণের লক্ষ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন এবং পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

​সরকারের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য পরিকল্পনার খতিয়ান তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বাস্থ্য ইউনিট’-এ রূপান্তর করা হবে এবং নাগরিকদের জন্য ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ প্রদান করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা শতভাগ পূরণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার্সের সংখ্যা বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হবে, প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধায় প্রতিটি উপজেলা হেলথ কমিউনিটি কেন্দ্রে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হবে। এছাড়া দেশের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজসাধ্য করতে তিন ধাপের একটি বিশেষ ব্যবস্থা চালুর কথা উল্লেখসহ শিশুদের পুষ্টিহীনতা রোধে সরকারের বিভিন্ন বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি। উদ্বোধনী পর্ব ও আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সরকারের স্বাস্থ্য ভাবনার বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।


বিজ্ঞাপন

​এর আগে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০২০ সালে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জন্য আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলেও তা আজ পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়নি। যার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২৩টি জেলার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি দেশের দ্বিতীয় ডেন্টাল কলেজটি গোপালগঞ্জে নির্মিত হওয়া সত্ত্বেও তা এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২৩ জেলার চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের সুবিধার্থে এই আধুনিক প্রকল্পগুলো দ্রুত সক্রিয় করা হবে। আজকের প্রধান অতিথি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারকে সাথে নিয়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুকম্পায় এই উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।”


বিজ্ঞাপন

 

অনুষ্ঠানে অন্যন্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ এবং গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোরশেদ মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক সাবিনা পারভীন, গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের পরিচালক ডা. শাহীন ইকবাল, জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার রায় এবং ডা. মোহাম্মদ কাওছার হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

👁️ 411 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *