
নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী Ahsan Habib-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত প্রকৌশলীর পক্ষ।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাজ না করে বিল পরিশোধ, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ইজিপি আর্কাইভ ও কোটেশন ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি—এ ধরনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। তবে এসব অভিযোগের কোনো প্রামাণ্য নথি, নিরপেক্ষ অডিট রিপোর্ট বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোটেশন ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা : প্রতিবাদে বলা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলমান সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) ও ইজিপি সিস্টেম অনুসরণ করেই সকল কোটেশন ও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

কোটেশন আহ্বান ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে: কাজ সম্পন্নের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, কোনো ধরনের “কাজ ছাড়া বিল প্রদান” এর অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, প্রতিবাদপক্ষ দাবি করে, মাঠপর্যায়ের দৃশ্যমানতা না থাকাকে ভিত্তি করে কাজ হয়নি—এমন দাবি করা প্রশাসনিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা।

ইজিপি আর্কাইভ ও রাজারবাগ প্রকল্প প্রসঙ্গে : রাজারবাগ পুলিশ ব্যারাক বিল্ডিং-৩ সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে বলা হয়, ইজিপি (e-GP) সিস্টেমে কোনো দরপত্র আর্কাইভ হওয়া মানেই কাজ শেষ ও বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া বোঝায় না।
প্রতিবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়: প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছে, ইজিপি ডাটা এন্ট্রি ও আর্কাইভিং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, সরেজমিনে অসম্পূর্ণতা দাবি করলে তা যথাযথ টেকনিক্যাল যাচাই ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়।
দরপত্র পদ্ধতি (LTM বনাম OTM) প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা : প্রতিবাদে বলা হয়, এলটিএম (LTM) বা ওটিএম (OTM) নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে কাজের ধরন, অর্থমূল্য এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
এখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই বলে দাবি করে বলা হয়: OTM ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বিধিসম্মত কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়েছে, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য,
কমিশন বা ব্যক্তিগত সুবিধার অভিযোগ সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর
রাজনৈতিক ও অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে : প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অতীত কর্মস্থলের অনিয়ম বা “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” ধরনের ট্যাগ সম্পূর্ণরূপে চরিত্রহননের চেষ্টা।
এ ধরনের অভিযোগের কোনো: তদন্ত প্রতিবেদন নেই,
আদালতের রায় নেই, বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক প্রমাণ নেই, ফলে এগুলোকে ভিত্তিহীন অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামগ্রিক অবস্থান : প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, Ahsan Habib একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রকৌশলী হিসেবে নিয়মিত প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে: ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণাত্মক, তথ্যবিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ বলে দাবি করা হয়েছে।
উপসংহার : সংশ্লিষ্ট পক্ষ মনে করে, সরকারি প্রকল্প ও প্রকৌশল খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্টদের আরও যাচাই-বাছাই করা উচিত।
তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে সত্য উদঘটনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয়ে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়।
