
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় আড়ালে থাকার পর সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশো উপস্থাপনায় এক পরিচিত মুখের প্রত্যাবর্তন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে, আলোচিত এই উপস্থাপিকা সাম্প্রতিক টকশোগুলোতে অতিথি নির্বাচন ও আলোচনার ধরনে নিরপেক্ষতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সমালোচকদের দাবি, আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে এমন অতিথিদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যাদের বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। তাদের অভিযোগ, আলোচনায় পাল্টা মতামতের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় টকশোগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

একই সঙ্গে অতীতেও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটির সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল বলে সমালোচকদের বক্তব্য। তাদের দাবি, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন নাগরিক উদ্যোগ ও প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে চ্যানেলটির সম্পৃক্ততা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। যদিও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই নিজেদের অবস্থানকে সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে অভিযোগ করা হচ্ছে, আলোচিত টকশোগুলোতে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা একাংশের কাছে পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, সংবাদমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা ধরে রাখতে হলে অতিথি নির্বাচন, উপস্থাপনা এবং মতামতের ভারসাম্য নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করাও পেশাদার সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক নীতি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপস্থাপিকা ও টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
