
আরমান হোসেন রাজু, (রংপুর) : রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক এক শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা মঙ্গলবার কাউনিয়া থানায় মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল হাকিম (২৪) রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, ঘটনাটি মীমাংসার কথা বলে অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি জানাজানি হলে মাদরাসা এলাকায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ, ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর ম্যাসাজ করে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে পরিণতি খারাপ হবে বলে শিশুটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে বিভিন্ন সময় রাতে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীর ম্যাসাজের নামে অনৈতিক আচরণ করতেন। এতে রাজি না হলে রড ও পাইপ দিয়ে মারধর করা হতো বলেও শিশুটি অভিযোগ করেছে।
সোমবার রাতে ওই শিক্ষক আবারও শিশুটিকে তার কক্ষে ডেকে নেন এবং অনৈতিক আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে কৌশলে মাদরাসা থেকে বাড়িতে চলে যায় শিশুটি। পরে স্বজনদের কাছে ঘটনাটি জানায়।
শিশুটির স্বজনেরা জানান, ওই রাতেই তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে মাদরাসায় রাখা হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হানের জিম্মায় রেখে অন্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে যান। তবে শালিস শুরু হওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিক্ষক সবার অগোচরে মাদরাসা থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদরাসায় জড়ো হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায়ই রাতে তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে শরীর ম্যাসাজ করতে বলতেন। এতে রাজি না হলে মারধর করতেন। আগেও তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে শিশুটি। এসব ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও জানায় সে।
অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান।
তিনি বলেন, তিনি ওই শিক্ষককে পালিয়ে যেতে কোনো সহযোগিতা করেননি। সকালে কীভাবে সবার অগোচরে আজিজুল হাকিম মাদরাসা থেকে পালিয়ে গেছেন, তা তিনি জানেন না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান
।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ আইনের ধারায় মাদরাসাশিক্ষক আজিজুল হাকিমকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে আসামি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
