কারাগারে থেকেও আলোচনার কেন্দ্রে শিমুল: গোপালগঞ্জ-১ আসনে কি তবে নতুন ইতিহাস হতে যাচ্ছে ?

Uncategorized খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী :  গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর–কাশিয়ানী) আসনের নির্বাচনী ময়দানে বইছে নতুন হাওয়া। মুকসুদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম শিমুলের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবরে পুরো এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ মুহূর্তেই পাল্টে গেছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিল শুনানির মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মাঝে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা-কল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, শিমুলের এই প্রত্যাবর্তন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এক নতুন ইতিহাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


বিজ্ঞাপন

​নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান পার্সেন্ট ভোটারের স্বাক্ষর জটিলতার কারণে প্রাথমিক বাছাইয়ে আশরাফুল আলম শিমুলের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আইনি লড়াইয়ে হাল ছাড়েননি তিনি। নির্বাচন কমিশনে আপিল করে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং তৃতীয় দিনের শুনানিতে তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত এলাকায় পৌঁছানোর সাথে সাথেই তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

​আশরাফুল আলম শিমুল এই অঞ্চলের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক অভাবনীয় রেকর্ড রয়েছে—এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনেই তিনি হারের স্বাদ পাননি। ২০০৯ সালে মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে শুরু করে ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ২০২২ সালে মুকসুদপুর পৌরসভার মেয়র পদে জয়লাভ করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন

প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চাপ সামলে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এবারের সংসদ নির্বাচনেও তার সেই ‘অপরাজিত’ তকমা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।


বিজ্ঞাপন

​শিমুলের জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে তার গভীর পারিবারিক ঐতিহ্য। তার বাবা মরহুম খায়রুল বাকী মিয়া ছিলেন মুকসুদপুরের গণমানুষের নেতা। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়া এই নেতার স্মৃতি আজও প্রবীণ ভোটারদের আবেগতাড়িত করে। বাবার সেই বিশাল ভোট ব্যাংক আর নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে শিমুল এবার গোপালগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

​তবে এবারের লড়াইটি শিমুলের জন্য ভিন্ন চ্যালেঞ্জের। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। অর্থাৎ, নির্বাচনী প্রচারণার মূল সময়টিতে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কারাবন্দি অবস্থায় অনেক নেতার বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার নজির রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, কারান্তরীণ প্রার্থীর প্রতি সাধারণ ভোটারদের এক ধরনের অদৃশ্য সহানুভূতি তৈরি হয়। মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্যেও সেই সহানুভূতির আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

​স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আশরাফুল আলম শিমুল মাঠে না থাকলেও তার জনপ্রিয়তা ও তার বাবার অনুসারীরা যে কোনো বড় পরিবর্তনের কারিগর হতে পারেন।

গতকাল সোমবার  ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—জেল থেকেই কি শিমুল গড়বেন নতুন কোনো রেকর্ড? নাকি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে? গোপালগঞ্জ-১ আসনের এই শ্বাসরুদ্ধকর নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তর জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

👁️ 29 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *