কসবা সীমান্তে চোরাচাহনিদের ‘অদৃশ্য সাম্রাজ্য ’: প্রতি রাতে হাজার কেজি গাঁজা, অস্ত্র, কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এখন কি চোরাচালানের নিরাপদ করিডোর? স্থানীয়দের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে সীমান্তবর্তী এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট—যারা রাতকে বানিয়েছে অবৈধ বাণিজ্যের উৎসব, আর দিনকে করেছে ‘নীরবতার চুক্তি’।


বিজ্ঞাপন

প্রতি রাতে ২–৩ হাজার কেজি গাঁজা—কোন শক্তিতে ?
অভিযোগ উঠেছে, কসবা রেলস্টেশন সংলগ্ন পূর্ব পাশের সীমান্তপথ—কমলাসাগর, দিঘীরপাড়, চাটুয়াখলা ও রাউৎখলা রুট ব্যবহার করে প্রতিরাতে ২ থেকে ৩ হাজার কেজি গাঁজা দেশে ঢুকছে।

শুধু মাদক নয়, সীমান্ত পেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রও আসছে নির্দিষ্ট চক্রের হাতে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা। প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র কি চোখ এড়িয়ে ঢুকছে, নাকি কারও ছত্রছায়ায়?


বিজ্ঞাপন

মাদক থেকে মোবাইল ডিসপ্লে—তালিকা দীর্ঘ  : নেটওয়ার্ক আরও দীর্ঘ : গাঁজা তো আছেই। পাশাপাশি অভিযোগের তালিকায় রয়েছে— মদ ও বিয়ার, ইয়াবা, ফেনসিডিল, শাড়ি ও থ্রি-পিস, কসমেটিকস, মোবাইল ডিসপ্লে এবং উচ্চমূল্যের ওষুধ।


বিজ্ঞাপন

এসব পণ্য সীমান্ত পয়েন্ট পেরিয়ে সড়কপথ ও মালবাহী ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অর্থাৎ, এটি কোনো ‘ছোটখাটো পাচার’ নয়—এ এক পূর্ণাঙ্গ সাপ্লাই চেইন!

দিনের আলোতেই পণ্য খালাস  ! সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ—কসবা রেলস্টেশনের পূর্ব পাশের সীমান্ত এলাকায় দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে পণ্য নামানো হয়। এক আলোচিত ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক শ্রমিক নাকি এসব পণ্য খালাস ও বহনে নিয়োজিত।

প্রশ্ন জাগে—এত বড় কর্মযজ্ঞ কি গোপনে সম্ভব? নাকি ‘সবাই জানে, কেউ বলে না’—এই সংস্কৃতিই এখন নিয়ম?

লাইন ক্লিয়ার” রাখতে কোটি টাকার বাজেট  ?  স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে আরও ভয়ংকর তথ্য—সিন্ডিকেটের মাসিক বাজেট কয়েক কোটি টাকা! উদ্দেশ্য একটাই—‘লাইন ক্লিয়ার’ রাখা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সংস্থাকে ম্যানেজ করেই এই বাণিজ্য চলছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাঝেমধ্যে ছোট চালান ধরা পড়লেও মূল হোতারা নাকি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। বড় নেটওয়ার্ক অক্ষত—বলির পাঁঠা কেবল ছোট কর্মীরা!

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা—নীরবতার কৌশল ?  সংবাদ প্রকাশ হলেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাজানো গায়েবি মামলা, হয়রানি—এমন অভিযোগও রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সত্য প্রকাশ কি এখন অপরাধ ?

এখন প্রশ্ন রাষ্ট্রের কাছে : প্রতিরাতে হাজার কেজি মাদক ঢুকছে—কোথায় নজরদারি ?  অস্ত্র পাচারের অভিযোগ—কারা জড়িত ? রেলস্টেশন এলাকায় দিনের বেলা পণ্য খালাস—কাদের ছত্রছায়া ? কোটি টাকার “ম্যানেজমেন্ট বাজেট”—কারা পাচ্ছে এই অর্থ ?

কসবা সীমান্তের এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য যদি ভেঙে না ফেলা যায়, তাহলে তা শুধু একটি উপজেলার নয়—জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এখন দেখার বিষয়—তদন্ত কি সত্যিই হবে, নাকি আবারও ধুলো পড়বে ফাইলে?

👁️ 243 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *