
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে বরিশালের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় যেন ফিরে এলো স্মৃতি, দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার। বরিশালে অবস্থিত জে আর হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল রূপ নেয় এক অনুপ্রেরণামূলক আলোচনা সভায়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগ সমিতি, ঢাকা-এর সভাপতি ও অভিভাবক ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জনাব মজিবর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও জে আর হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন আকন্দ এবং হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানবিক উদ্যোগে নতুন দিগন্ত : সভায় সংগঠনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়—কবরস্থানের জন্য জমি ক্রয়, শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প বাস্তবায়ন, যাকাত তহবিলে অর্থ সংগ্রহ এবং প্রকল্পগুলোকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও অসহায় মানুষের কল্যাণে সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এসব প্রকল্পের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগের সব সামাজিক সংগঠনের উচিত এমন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
পদ্মা সেতু আন্দোলনের স্মৃতিচারণ : বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত মাওয়ায় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন আন্দোলন স্টিয়ারিং কমিটির কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সে সময় অনেকেই পদ্মা সেতু নির্মাণকে অবাস্তব স্বপ্ন বলে আখ্যা দিয়ে নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু দৃঢ় নেতৃত্ব ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জাইকা সমীক্ষা দলের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে প্রথম পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা আসে।
বর্তমানে বাস্তবায়িত পদ্মা সেতু দক্ষিণ বাংলার কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এ অর্জন আমাদের জনগণের এবং নেতৃত্বের সম্মিলিত অবদান।”
নৈতিকতার আহ্বান : অনুষ্ঠানে তিনি সকলকে পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। যাদের পিতা-মাতা ইন্তেকাল করেছেন, তাঁদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে দোয়া করার অনুরোধ জানান।
ইফতারের পূর্বে দেশ, জাতি এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি ছিল আত্মিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নচিন্তার এক অনন্য সম্মিলন।
