
অপু কিরণ (নারায়ণগঞ্জ) : নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হালদার (৪৭) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।২৮ ফেব্রুয়ারি(আজ) সকাল পৌনে ১০টার দিকে বন্দর এলাকার একটি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নার্সের গ্রামের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কাঠিরা গ্রামে। তার স্বামী খোকন বাড়ৈ’ঢাকা লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি এনজিওতে রোগীদের নিয়ে কাজ করেন।তিনি সংস্থাটির নারায়ণগঞ্জ জেলার ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত।খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী এই দম্পতির নারায়ণগঞ্জের আবাসস্থল বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাবিব মিয়ার ভাড়া বাড়ি।
জানা যায়,গতকালই স্বামীর কাছে বেড়াতে এসেছিলেন ওই নার্স। আজ সকালে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে যাওয়ার বাসে তুলে দেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে করে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন স্বামী খোকন বাড়ৈ। তিনি নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং স্ত্রী পেছনে বসা ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তারা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলে সজোরে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কা খেয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এ সময় স্বামী খোকন বাড়ৈ অলৌকিকভাবে অক্ষত থাকলেও তার স্ত্রী চলন্ত ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাস্থলের এই রাস্তাটি গত দুই বছর ধরে ভাঙা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। রাস্তাটি মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় এই সড়ক দিয়ে চলাচলে নিয়মিত ঝুঁকি পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে। ভাঙা রাস্তার কারণে এর আগে অসংখ্য মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। তবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
