ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের মহাদুর্নীতি: কারাগারে বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক, আদালত চত্বরে সাংবাদিককে লাথি !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় প্রশাসনিক সংবাদ বরিশাল বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, (বরিশাল) :  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর দীর্ঘদিনের আলোচিত দুর্নীতির আরেকটি বড় অধ্যায়ের পর্দা নামলো বরিশালে। ভুয়া গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে আড়াই হাজার বাস ও ট্রাককে অবৈধভাবে বৈধতা দিয়ে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।


বিজ্ঞাপন

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। দুদক দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ করা হয়—দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শাহ আলম সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্রে হাজার হাজার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেন, যার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ অর্থ লেনদেন সংঘটিত হয়।

দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার—কিন্তু আদালত চত্বরে নতুন বিতর্ক :  আদালতের আদেশের পর পুলিশ প্রহরায় তাঁকে কারাগারে নেওয়ার সময় ঘটে আরেকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ছবি তুলতে গেলে আদালত চত্বরে উপস্থিত এক ফটো সাংবাদিককে লাথি মারেন অভিযুক্ত শাহ আলম। পুলিশের সামনেই সংঘটিত এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

সাংবাদিক নেতারা বলছেন, “দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি আদালত প্রাঙ্গণেই সংবাদকর্মীর ওপর হামলা চালান, তাহলে তা শুধু আইন অমান্য নয়—এটি বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি।”


বিজ্ঞাপন

বিআরটিএ—দুর্নীতির আরেক নাম  ? দেশজুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিআরটিএ দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ভুয়া লাইসেন্স, জাল রেজিস্ট্রেশন, ঘুষ বাণিজ্য—এসব অভিযোগ নতুন নয়।

তবে আড়াই হাজার ভুয়া বাস-ট্রাক রেজিস্ট্রেশনের মতো বড় কেলেঙ্কারি সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে আসার পর তদন্ত জোরদার হয়। দুদক সূত্র জানিয়েছে, এই মামলায় আরও একাধিক কর্মকর্তা ও দালালচক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কঠোর শাস্তির দাবি : দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন  “যদি এই মামলায় কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন না হয়, তাহলে প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতিবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”

শেষ কথা : একদিকে হাজার হাজার ভুয়া রেজিস্ট্রেশনের দুর্নীতি, অন্যদিকে আদালত চত্বরে সাংবাদিক লাঞ্ছনা—এমডি শাহ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ শুধু একজন কর্মকর্তার নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

এখন দেখার বিষয়—আইন কি সত্যিই তার কঠোর প্রয়োগ দেখাতে পারে?

👁️ 21 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *