
নিজস্ব প্রতিনিধি, (ফরিদপুর) : ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খালাসপুর এলাকা বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই স্তব্ধ হয়ে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনায়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স সাদিয়া আফরিন (৪০) নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হন। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, মৃত্যুর পেছনের কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

কীভাবে জানা গেল ঘটনা ? পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরের পর থেকে সাদিয়া আফরিন বাসায় একাই ছিলেন।
সন্ধ্যার পর তার ভাই ও বোন একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে তার ভাই আশরাফ সরণ বাসায় এসে দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কর্মস্থলে কেমন ছিলেন সাদিয়া ? সহকর্মীদের মতে, সাদিয়া আফরিন দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে পরিচিত ছিলেন কর্মঠ ও দায়িত্বশীল একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে কোনো চাপ ছিল কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ব্যক্তিগত জীবনে কি ছিল কোনো সংকট ? পশ্চিম খালাসপুরে বাবার গ্রামের বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাকে খুব একটা মেলামেশা করতে দেখা যেত না; তবে কারও সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের খবরও পাওয়া যায়নি।

এখন প্রশ্ন উঠছে— তিনি কি ব্যক্তিগত কোনো মানসিক চাপে ভুগছিলেন ? কর্মস্থলে কোনো চাপ বা জটিলতা ছিল কি ? নাকি এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ফল ?
তদন্তের অগ্রগতি : ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট : স্বাস্থ্যখাতে কর্মরতদের ওপর কর্মচাপ, মানসিক চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা অনেক সময় গভীর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ও সহায়তা ব্যবস্থার ঘাটতি অনেক ক্ষেত্রেই নীরব সংকট তৈরি করে। এই ঘটনার পূর্ণ সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে পরিবার, সহকর্মী ও এলাকাবাসী।
