দস্যুদের তান্ডবের মুখে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে ১০ হাজার জেলে  :  বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশংকা

Uncategorized খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার,  (শরণখোলা)  :  জলদস্যুদের বেপরোয়া তান্ডবে সাগর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের নির্যাতনে আতংকিত হয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কাজে নিয়োজিত ১০ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় শুঁটকি প্রক্রিয়া বাবদ বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব ঘাটতির আশংকা দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতংকে দুবলা শুঁটকি পল্লীতে অবস্থানরত দশ সহস্ত্রাধিক জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বাধ্য হয়ে চরে অবস্থান করে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন ।

সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর,সুমন,শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছেনা তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃংখলা বাহিনীর কোন তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় প্রশাসনিক দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিলো “জলে কুমির,ডাঙ্গায় বাঘ” এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত”। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দু’দিনেও ঐ ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মোতাসিম ফরাজী জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতংকে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশংকা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেষ্ট ষ্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন,বনদস্যু আতংকে তাদের ষ্টেশন অফিস থেকে কোন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না যে কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরণের প্রভাব পড়ছে বলে ঐ ষ্টেশন কর্মকর্তা জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় সাধ্যমত কাজ করছেন বলে এসিএফ জানান।

👁️ 18 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *