
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিস্তৃত একটি শক্তিশালী মাদক চক্রের সন্ধান মিলেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে। একই দিনে পৃথক অভিযানে কুখ্যাত “হেরোইন সম্রাজ্ঞী” ও “ইয়াবা সম্রাট” গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উত্তরা সার্কেল টিম ৫ এপ্রিল দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে বিকাল প্রায় ৫টায় রাজধানীর ডেমরা থানাধীন পূর্ব ডগাইর এলাকায় সেনোয়ারা গ্রীন পার্ক সংলগ্ন একটি চারতলা ভবন থেকে হোসনে আরা বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে। অভিযানে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪০০ গ্রাম হেরোইন এবং ৫০০ পিস ইয়াবা।
জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরেক ‘মাদক সম্রাট’ : হোসনে আরাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের চনপাড়া এলাকায়। সেখানে একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় কথিত “ইয়াবা সম্রাট” মোঃ ইদ্রিস (৪৫)-কে। তার দখল থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ—২০,০০০ পিস ইয়াবা।

উদ্ধারকৃত আলামত : ইয়াবা: ২০,৫০০ পিস হেরোইন: ৪০০ গ্রাম, নগদ টাকা: ৫০,০০০ টাকা এবং মোবাইল ফোন: ২টি।

সীমান্তভিত্তিক মাদক সিন্ডিকেটের চিত্র : প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে এক বিস্তৃত আন্তঃজেলা মাদক নেটওয়ার্কের তথ্য— হোসনে আরা বেগম যশোর জেলার বেনাপোল সীমান্ত থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে রাজধানীর দয়াগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন।
অপরদিকে মোঃ ইদ্রিস কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন স্পটে বিতরণ করতেন। উভয়েই ভারতীয় সীমান্ত থেকে সংগৃহীত মাদকের মূল্য হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করতেন বলে জানা গেছে।
দুটি পৃথক মামলা প্রক্রিয়াধীন : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্তকে পৃথক স্থান থেকে গ্রেফতার করা হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা : অভিযান পরিচালনা করেন উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
উপ-পরিচালক শামীম আহম্মেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শেষ কথা : একই দিনে “হেরোইন সম্রাজ্ঞী” ও “ইয়াবা সম্রাট”-এর গ্রেফতার কেবল একটি সফল অভিযান নয়—এটি রাজধানী ও আশপাশে বিস্তৃত মাদক সিন্ডিকেটের গভীর শিকড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এই চক্র ভেঙে দিতে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হলে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
