
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবির মধ্যেই সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার খবর। জাল নথিপত্র তৈরি করে পত্রিকার পদ দখল, অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্ধ কোটি টাকার প্রতারণা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে ‘দৈনিক ভোরের চেতনা’র সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন।

অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ও অর্থ আত্মসাৎ : অভিযোগ রয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে সচিবালয়ে প্রবেশের পাস বা প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শফিকুল বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রতারণার মাধ্যমে তিনি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা অবৈধভাবে আত্মসাৎ করেছেন।
মাদক কারবারি ও অসাধুদের হাতে প্রেস কার্ড : তদন্তে উঠে এসেছে, শফিকুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তি এবং মাদক কারবারিদের হাতেও সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র (প্রেস কার্ড) তুলে দিয়েছেন। পেশাদার সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের লড়াই ও সম্মানের এই জায়গাকে তিনি ব্যক্তিগত বাণিজ্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সহকারীর নাম জড়িয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড : আরও অভিযোগ রয়েছে, তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন শারমিন আক্তার নামের এক নারী, যাকে তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে সহকারী বার্তা সম্পাদক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের পারস্পরিক যোগসাজশ ও পরকীয়া সংক্রান্ত বেশ কিছু স্পর্শকাতর প্রমাণ ও ভিডিও ক্লিপ ইতিমধ্যে জনসমক্ষে এসেছে।

নারী নির্যাতন ও গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ : শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, শফিকুলের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইল করার ফাঁদ পাততেন।
কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা : এসব বিষয়ে শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকতার আড়ালে এমন জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল এই তথাকথিত সাংবাদিক’ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
