
নিজস্ব প্রতিনিধি (দিনাজপুর) : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিনাজপুরের বিরল ও বীরগঞ্জ সীমান্তে এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সীমান্তে আলাদা আলাদা তিনটি অভিযানে দুষ্প্রাপ্য ০২টি কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ০১টি শ্বেত পাথরের মূর্তিসহ শ্রী সুমন চন্দ্র দেব (৩০) ও মোঃ আব্দুল হাই (৬৫) নামের

০২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সম্প্রতি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দেশের মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের পরিকল্পনা করছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল গতকাল (১১ এপ্রিল) আনুমানিক রাত পৌনে দুইটা থেকে সকাল ০৭টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলার বিরল ও ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর সীমান্ত এলাকায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এবং ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৯.৫৪ কেজি ওজনের দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের ১টি মূর্তি (বিষ্ণু) এবং ৪৫.৩৭ কেজি ওজনের মূল্যবান শ্বেত পাথরের ১টি মূর্তি (শিব) সহ ২ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের বিরল উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের জগদীশ চন্দ্রের ছেলে সুমন চন্দ্র দেব (৩০) এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত আবু সাঈদ এর ছেলে মোঃ আব্দুল হাই (৬৫)।
পরবর্তীতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩.৮৫ কেজি ওজনের ০১টিয়দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের মূর্তি (শিব লিঙ্গ) উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মূর্তিসমূহ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) ‘পুরাকীর্তি সংরক্ষিত আইন’ অনুযায়ী দেশ ও জাতির প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য বহন করে এ জাতীয় সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের দায়িত্ব সরকার তথা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপর ন্যস্ত।
উদ্ধারকৃত কষ্টিপাথরের মূর্তি ও শ্বেত পাথরের মূর্তির আনুমানিক সিজারমূল্য ৬৬,০৭,৫০০/- (ছেষট্টি লক্ষ সাত হাজার পাঁচশত) টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় মূর্তি সমূহের মূল্য অসীম ও অপরিমেয়।
জব্দকৃত মূর্তিগুলোসহ আটককৃত ব্যক্তিদেরকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করে সফল অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর সদস্যরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
