
জুয়েল খন্দকার, (কুমিল্লা) : কুমিল্লা নগরী অবাধে ভারী যানবাহন প্রবেশ করে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ পথচারী ও নগরবাসী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ট্রাক, বাস ও ভারী যানবাহন প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। শহর ঘুরে শতাধিক বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই এসব যানবাহন প্রতিনিয়ত শহরে প্রবেশ করছে।
কুমিল্লা বিশ্বরোড, জাঙ্গালিয়া ও শাসনগাছার বাসগুলো প্রায়ই অনায়াসে কান্দিরপাড় এবং হোটেল সালাউদ্দিনের আশেপাশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা নগরবাসী। ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালনের স্বচ্ছতা নিয়েও জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে রাত ৮টার পর কান্দিরপাড় থেকে শাসনগাছা ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। যানজট যেন শহরবাসীর জন্য নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দাবি, যৌক্তিক কারণ ছাড়া শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশ করা অচিরেই কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে। নগরবাসীকে এই অসহনীয় যানজট থেকে মুক্তি দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাস মালিক সমিতির একাংশ জানান—কুমিল্লা নগরীর প্রতিটি বাস স্ট্যান্ড ও ডিপো থেকে ট্রাফিক বিভাগসহ সিটি করপোরেশনের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মাসিক চাঁদা প্রদান করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও এসব বাস শহরে অনায়াসে প্রবেশ করলেও ট্রাফিক বিভাগ কখনো তাদের আটক করে না কিংবা মামলাও দেয় না।
অন্যদিকে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিয়মিত মোটরসাইকেল আটকে জরিমানা করতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইবে, তা নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে।
সচেতন মহলের দাবি, এই অপরিকল্পিত শহরে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভারী যানবাহন প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে কোনো ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশকে অবশ্যই তার কারণ জানতে হবে এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
পাশাপাশি প্রতিটি ভারী যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নিয়মিত কাগজপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জোরদার করা হলেই যানজট নিরসন সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন নগরবাসী।
