প্রতারণায় সর্বস্বান্ত গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্পপরিবার, জনকণ্ঠসহ সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আমার স্বামী মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করি। রাজিয়া রহমান বৃষ্টির মা আমার স্কুলজীবন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। প্রায় ৫৫ বছরের পরিচয় তাদের।


বিজ্ঞাপন

সেই সূত্রে রাজিয়াকে আমি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর নিজের প্রতিষ্ঠানে চিফ বিজনেস অফিসার পদে নিয়োগ দেই। মালিক পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত হন রাজিয়া। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর পারিবারিক ব্যবসার জন্য জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ততদিনে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

আমি ঋণ পরিশোধের জন্য প্রায় মোট ৮০ কোটি টাকা জোগাড় করি। এর মধ্যে জমি বিক্রি এবং অন্যান্য উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা নগদ এবং ১৫টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জোগাড় করা হয়। ব্যাংক ঋণ সমন্বয়ের জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে রাজিয়া, আমার কাছ থেকে পূবালী ব্যাংকের নতুন হিসাবের মোট ৫৪টি তারিখ ও টাকার অঙ্ক বিহীন চেক নেয়। আমি সরল বিশ্বাসে চেকে স্বাক্ষর করি।


বিজ্ঞাপন

এই চেকগুলোর মধ্যে ৩৫টি ফাঁকা ও তারিখবিহীন চেক ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে রাজিয়া ও তার সহযোগীরা আমার ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ৭৯ কোটি ৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা তুলে নেয়। প্রতিকার পেতে গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাজিয়া রহমান বৃষ্টি তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করি আমি।


বিজ্ঞাপন

আসামীদের বিরুদ্ধে আদালত গত ১৬ মার্চ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেন। তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে রাজিয়া রহমান বৃষ্টি আগেভাগেই থাইল্যান্ড পালিয়ে গেছেন। তার সহযোগীদের অনেকেই এখনও দেশে গা ঢাকা দিয়ে আছেন বলেও জানা যায়। তবে তাদের কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। কয়েকটি গণমাধ্যমে আমাদের পক্ষে সংবাদ প্রচার হয়েছে।

২ এপ্রিল ‘বিশ্বাসের ভয়ংকর পরিণাম সর্বস্বান্ত গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্পপরিবার গ্রুপের চেয়ারম্যান’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার হয়েছে খবরের কাগজ পত্রিকায়, ২৭ এপ্রিল ‘প্রতারণার শিকার গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প’ পরিবার শিরোনামে প্রকাশ হয়েছে বাংলানিউজে,  ১৭ এপ্রিল ‘টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা, মেজবাহ-বৃষ্টি দম্পতির’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে দৈনিক সমকালে।

বান্ধবীর অসচ্ছল মেয়েকে বিশ্বাস করে নিজ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দিয়ে এখন আমি সর্বস্বান্ত। আমার কাছে একটি টাকাও নেই যে প্রতিষ্ঠান চালাবো। কিভাবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করবো জানিনা। তাই আজ থেকে দৈনিক জনকন্ঠসহ গ্লোব জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হল।

👁️ 22 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *