
নইন আবু নাঈম তালুকদার (শরণখোলা) : বাগেরহাটের শরণখোলায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভরাট হওয়া খাল পুনঃ খনন করে পানি সংকট দুর করা গেলে তরমুজসহ কৃষি ফসল উৎপাদনে উপজেলায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে কৃষকরা জানালেন।

সরেজমিনে বুধবার ২৮ বিকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত জোড়া খেতে তরমুজের সমারোহ। এ ছাড়াও উপজেলার রাজেশ্বর, জিলবুনিয়া, উত্তর তাফালবাড়ী, রাজৈরসহ অন্যন্য কয়েকটি গ্রামেও ব্যপক জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন চাষীরা।
সোনাতলা গ্রামের কৃষক মজিবর আকন বলেন, এ বছর শুধুমাত্র সোনাতলা গ্রামেই ৮জন কৃষক ৮০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে।

গত চার বছর আগে প্রথম তরমুজের চাষ শুরু করেন তিনি। তা দেখে অনেক কৃষক তরমুজ চাষে এগিয়ে আসেন। এ বছর উৎপাদিত তরমুজ ট্রাক ভরে খুলনা ও বাগেরহাটসহ স্থানীয় বাজারে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। ধানের চেয়ে তরমুজ চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি বলে কৃষক মজিবর আকন জানালে কৃষক পান্না আকন বলেন, মাঠের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি ভরাট হয়ে আছে।

ফলে বেশি টাকা ব্যয় করে অনেক দুর থেকে পাইপের মাধ্যমে মিষ্টি পানি এনে তাদের তরমুজ চাষ করতে হচ্ছে। কৃষক ফজলুল হক, মিরাজ হাওলাদার, শিপন হালদার বলেন, এবার তরমুজের ভালো ফলন হলেও সম্প্রতি হঠাৎ বৃষ্টিপাতে মাঠে পানি জমে অনেক তরমুজ নষ্ট হয়েছে। যে কারণে তারা বেশী লাভ করতে পারেননি বলে ঐ কৃষকরা জানান।
স্থানীয় সমাজ সেবক আবু রাজ্জাক আকন বলেন, তরমুজ খেত থেকে মাত্র দুই হাজার ফুট দুরত্বে থাকা খুরমাতলা উত্তর তাফালবাড়ী খালটি দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঐ খালটি পুনঃ খনন করা হলে কৃষকদের চাষাবাদের পানি সংকট দুর হবে। এর ফলে এখানে কৃষি ফসল উৎপাদন ৪/৫ গুন বেড়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানালেন ঐ সমাজসেবক।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, তরমুজ চাষ শরণখোলায় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরে উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।আগামীতে আরো বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হবে বলে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান।
