ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে  :  বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্তপুর্ন বৈঠক 

Uncategorized জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত, কৌশলগত ও ভবিষ্যতমুখী পর্যায়ে নিয়ে যেতে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (EEAS) এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক Mr. Erik Kurzweil সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, এমপির সঙ্গে।


বিজ্ঞাপন

এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় গতকাল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া ৫ম বাংলাদেশ-ইইউ ডিপ্লোম্যাটিক কনসালটেশনের ধারাবাহিকতায়। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বহুমুখী, আধুনিক ও ভবিষ্যতকেন্দ্রিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


বিজ্ঞাপন

জবাবে এরিক কার্জওয়েল বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারিত্বের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই সম্পর্কের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তরিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী।


বিজ্ঞাপন

বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয় যে, প্রস্তাবিত Partnership and Cooperation Agreement (PCA) দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করবে।

আলোচনায় উঠে আসে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক সফর সহজীকরণ, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রস্তুতি, অভিবাসন সহযোগিতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব, বহুপাক্ষিক কূটনীতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যু। রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন রোধে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে বৈধ অভিবাসনের আরও সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি বিশেষভাবে Talent Partnership উদ্যোগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান, যাতে দক্ষ জনশক্তির জন্য ইউরোপে বৈধ কর্মসংস্থানের পথ আরও উন্মুক্ত হয়।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের এই নতুন গতি শুধু বাণিজ্য বা উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভবিষ্যতের ভূরাজনীতি, অভিবাসন, জলবায়ু ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

👁️ 38 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *