সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে যেতে চাননা বসুন্ধরার বাসিন্দারা

Uncategorized কর্পোরেট সংবাদ জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক  : মহানগরী ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম স্পেশালইজড একটি সিটি। এখানকার নাগরিক সুবিধা ঢাকার সিটির অন্য যে কোন এলাকার চেয়ে উত্তম এবং নিরাপদ। স্পেশালাইজড এই প্রাইভেট টাউনে যে সব নাগরিক সুবিধা আছে তা ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতার অন্য এলাকায় নেই। এই কারনেই বাসিন্দরা সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চায়না।


বিজ্ঞাপন

বসুন্ধরার বাসিন্দাদের শঙ্খা, সিটি করপোরেশন বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মতো করে নিরাপত্তা দিতে পারবেনা। যার ফলে বাড়বে সন্ত্রাস ও মাদকের ঝুঁকি। নষ্ট হয়ে যাবে বাসিন্দাদের শান্তির নিরাপদ আবাস।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিজস্ব অর্থায়নে নিরাপত্তা, রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সব নাগরিক সেবা দিচ্ছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত, আধুনিক ও নিরাপদ নাগরিক সেবায় অভ্যস্ত। তাঁদের দাবি, দেশের অন্য যেকোনো আবাসিক এলাকার তুলনায় বসুন্ধরা বেশি নিরাপদ, সুরক্ষিত, পরিচ্ছন্ন এবং মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত। এসব সেবা নিশ্চিত করে আসছে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।


বিজ্ঞাপন

এলাকার বাসিন্দারা তাদের আবাসিক প্রকল্পের সেবার নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) হাতে দিতে চান না। এসব কারনে তারা হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত রেখে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাটি সিটি করপোরেশনের বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন

আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল এমপি ও মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা ৬ মে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছেন।

চিঠিতে তারা বলেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নিরলসভাবে কাজ করছে। তারা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে চাননা। তাই সম্মিলিত সম্মতিপত্রে সই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় গেলে এখানকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে যাবে। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। বহিরাগত সন্ত্রাসী, হকার, চাঁদাবাজ ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সকল প্রবেশপথে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেন। রয়েছে বিপুলসংখ্যক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার নজরদারি। একারণেই অপরাধীরা এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না।

তারা আরও বলেন, ‘আমরা দিনের বেলায় একটি নিরাপদ ও আধুনিক সেবার বলয়ে যেমন শান্তিতে থাকি; তেমনি রাতের বেলায় থাকি আরও নিশ্চিন্ত। কারণ এমন নিরাপত্তাবেষ্টনী ঘেরা আবাসিক এলাকা বাংলাদেশে আর নেই। কিন্তু এটি সিটি করপোরেশনের আওতায় আসুক আমরা চাই না।

কারণ এখানে সব আধুনিক সেবা বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সিটি করপোরেশন রক্ষা করতে পারবে না। বরং তা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অপরাধ বেড়ে যাবে। তখন এর মা-বাপ কেউ থাকবে না।’

বাসিন্দারা আরও জানান, এমন একটি শান্তিময় আবাসিক এলাকা সিটির আওতায় গেলে, সার্বিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে। এখন এ আবাসিক এলাকাটি যত্রতত্র চায়ের স্টল, হকার ও দোকানপাটমুক্ত। এর ফলে এটি পরিচ্ছন্ন ও কোলাহলমুক্ত। কঠিন নিরাপত্তাবলয়ের কারণে এখানে সন্ত্রাসী কিংবা মাদকসেবীরা আসতে পারে না। আর এর ব্যতিক্রম হলে- এখানে মাদকসেবী ও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাবে। তাদের ঠেকাতে পারবে না সিটি করপোরেশন। কারণ, তাদের ওই জনবল ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নেই।

আবাসিক বাসিন্দাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রতিফলন দেখা যায়, সিটি করপোরেশনকে দেওয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ারের চিঠিতে। ওই চিঠি থেকে আরও জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণ ও মেরামত, ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কে বাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি সরবরাহ, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মশা নিধন, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন ও তারের সংযোগ এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণসহ সামগ্রিক কাজ বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কোনো আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করে না বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

শুধু তাই নয়; এই সোসাইটির ব্যবস্থাপনায় আবাসিক প্রকল্পটির সকল উন্নয়ন কাজ সম্ভাব্য ২০৩৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুমতিও নিয়ে রাখা হয়েছে। এখানকার আবাসিক বাসিন্দা ও সকল প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকরা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন না যাওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে এর আগেও সিটি করপোরেশনে সম্মিলিতভাবে চিঠি দিয়েছিল। ওই চিঠির স্মারক নং- রাজউক/বওসো/২০২৬/০১ এর আলোকে বিষয়টি অবগত করে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে। একই সাথে এর অনুলিপি ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসককেও দেয়া হয়েছে।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, এলাকাটি শুধু সেবার মানের দিক থেকেই নয়; এখানে দেশসেরা হাসপাতাল, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্বমানের স্পোর্টস সিটি, গল্ফ ক্লাব, শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, বেশ কয়েকটি সুপারশপ, কমিউনিটি পার্কসহ উন্নত নাগরিক সেবার সব উপকরণই রয়েছে। এখানে যেকয়েকটি দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরাও এখানে নিরাপদে বসবাস করে, শান্তিতে ঘুরে বেড়ায়, বসবাসের দিক থেকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এদিকে, সিটি করপোরেশনকে দেয়া বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চিঠিতেও এসবই তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃক বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস চার্জ পরিশোধের জন্য যে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করেছে তাতে বাসিন্দাদের মধ্যে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে তাও উল্লেখ করা হয়। বাসিন্দাদের ওপর এটি যে আর্থিক বোঝার শামিল এবং তা পরিশোধে তারা অপারগ সেটিও জানানো হয়।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আশা করে উক্ত প্রকল্পটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সকল ধরনের হোল্ডিং ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ স্থগিত করতে হবে এবং তা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সকল প্লট ও ফ্ল্যাট মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করবে।

বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাসিন্দাদের পক্ষে আশা করে উপরোক্ত সকল বিষয় সুবিবেচনায় নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পের সকল প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকগণের মানসিক ও আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন যেন না করা হয়।

👁️ 52 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *