
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : বাঙালি সত্তা ও সংস্কৃতির মহানায়ক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী গোপালগঞ্জে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই মাহেন্দ্রক্ষণে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী পুরুষ।

আজ শুক্রবার ৮ মে (২৫শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) জিয়াউল হক পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শোভন সরকার এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সানজিদা হক মিশু। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অসীম বাড়ৈ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ কে এম বাবর বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল একজন কবি নন, তিনি আমাদের জাতীয় চেতনার বাতিঘর। শান্তি ও মানবতার যে দর্শন তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও প্রতিটি সংকটে আমাদের পথ দেখায়।”
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের শুভ সূচনা করেন। স্বর্ণকলি স্কুলের শিক্ষক শাহানাজ পারভীন শিলুর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পী ও প্রকৌশলী জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার ফারহান কবীর সিফাতের দক্ষ মঞ্চসজ্জা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
সাংস্কৃতিক আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, মৃদঙ্গ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, মধুমতি শিল্পী গোষ্ঠী, জলসা ঘর সংগীত একাডেমি, সুর ঝংকার শিল্পী গোষ্ঠী, গোপালগঞ্জ কালচারাল ক্যানভাস ও ঘুঙুর নৃত্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।
বিচিত্রমুখী এই পরিবেশনা দর্শক হৃদয়ে ব্যাপক নাড়া দেয়। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী নাটিকা ‘ডাকঘর’, নৃত্যনাট্য ‘চণ্ডালিকা’ এবং মনোজ্ঞ দলীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি কানায় কানায় পূর্ণ হলভর্তি দর্শকদের বিমোহিত করে রাখে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্র অনুরাগী দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো আয়োজনটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা জেলা শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
