
সাঈদ শারজাবিন তুষার, (পাবনা) : পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। প্রতিদিন শত শত মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে বিচারিক কাজে এখানে এলেও তাদের জন্য ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা নেই বললেই চলে। আদালতের নোংরা ও ব্যবহারের অনুপযোগী ওয়াশরুম এবং বসার আসনের তীব্র সংকট নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অব্যবহারযোগ্য ওয়াশরুম ও স্বাস্থ্যঝুঁকি : সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের ওয়াশরুমগুলো দীর্ঘদিনের অযত্ন আর অবহেলায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন এখানে আসা বয়স্ক ও নারী বিচারপ্রার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বা অপেক্ষার পর শৌচাগার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অনেককেই আদালতের বাইরে অন্যত্র যেতে হয়, যা অত্যন্ত মানহানিকর। যদিও দাপ্তরিক নথিতে পাবলিক টয়লেটের কথা উল্লেখ আছে, বাস্তবে তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না।

শত শত মানুষের জন্য আসন মাত্র ৩টি : আদালতে আসা ব্যক্তিদের বিশ্রামের জন্য বসার জায়গার সংকট আরও প্রকট। শত শত বিচারপ্রার্থী উপস্থিত হলেও তাদের বসার জন্য মাত্র ৩টি আসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফলে বাকি মানুষগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বারান্দায় দাঁড়িয়ে অথবা আদালতের সামনের ধুলোবালিময় খোলা জায়গায় বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই পরিবেশ অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা : আদালত চত্বরে আসা বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ, এখানকার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক। বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চললেও সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয়তাগুলো এখানে চরমভাবে উপেক্ষিত।
অথচ সরকার সারাদেশে আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নে ‘ন্যায়কুঞ্জ’ এর মতো বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, কিন্তু পাবনা জজ কোর্টের এই চিত্র যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ।
পাবনার সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অব্যবস্থাপনা দূর করে টয়লেটগুলো সংস্কার করা হোক এবং পর্যাপ্ত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষ যেন নূ্যনতম সম্মান ও পরিবেশ পায়, তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
