
মোঃ ফজলুল কবির গামা (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় রাতের অন্ধকারে একটি ফলন্ত মাল্টা বাগান কেটে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এতে ভুক্তভোগী চাষির প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাধীন গাড়াবাড়িয়া গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ওলিয়ার রহমানের পৈতৃক ও ক্রয়কৃত প্রায় সাত বিঘা জমিতে মাল্টা, কলা ও পাটের সমন্বিত চাষ রয়েছে। ওই জমির পাশ দিয়ে আগে থেকেই স্থানীয়দের চলাচলের জন্য একটি সরু পথ বিদ্যমান ছিল।

তবে গত ৪ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল ব্যক্তি ভেকু বা খননযন্ত্র নিয়ে এসে ওলিয়ার রহমানের মাল্টা বাগানে তান্ডব চালায়। তারা বাগানের ফলন্ত গাছগুলো উপড়ে ফেলে সেখানে প্রায় ১২ ফুট চওড়া ও ৮০০ ফুট দীর্ঘ একটি রাস্তা তৈরি করে।

ভুক্তভোগী ওলিয়ার রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো পরদিন সকালে তিনি বাগানে গিয়ে দেখেন তার সাধের মাল্টা গাছগুলো কেটে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে একটি চওড়া রাস্তা বের করা হয়েছে।
হঠাৎ এমন দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার ফলে তার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এই ঘটনায় ওলিয়ার রহমান মহেশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মোমিনুর রহমান, মুকুল, মইদুল খা, রিপন, আব্দুল আলিম পারু এবং পাশের গোপালপুর গ্রামের স্বপনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় আব্দুল কুদ্দুস ও আব্দুল হামিদসহ বেশ কয়েকজনের নামও অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মহেশপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তারা লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাগান কেটে রাস্তা বানানোর এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
