সুদখোর ও কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ঝিকরগাছার মানুষ

Uncategorized অপরাধ আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি  (যশোর)  :  যশোরের ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়নে সুদখোর ও কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ। এদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শাসক দলের ছত্রছায়ায় থেকে এরা অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। শাসক দলের নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে পুরো ইউনিয়নকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছে না নিরহ মানুষ।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে জানা গেছে, পানিসারা ইউনিয়নে বর্ণি বাজার কেন্দ্র করে একটি সুদখোর চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। ওই বাজারের সুদখোর আব্দুল মমিন দীর্ঘদিন এক দশকের বেশি সময় ধরে সুদে কারবারী চালিয়ে আসছে। সুদ কারবারী চালানোর জন্য মমিন একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলেছে প্রথমে সাধারণ মানুষকে ঋণের জালে আবদ্ধ করে।

এরপর কিশোর গ্যাং দিয়ে জীবননাশের হুমকির মাধমে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করে। কেউ টাকা দিতে না পারলে তার জমি জোর পূর্বক লিখে নেয়। কারো কারো গোয়াল ঘরের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, মাছের ঘের থেকে মাছ লুট পর্যন্ত করে সুদখোর মমিন ও তার কিশোর গ্যাং। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে তাদেরকে ম্যানেজ করে চলে তার অপরাধ মুলক কাজ।


বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, সম্প্রতি বণি গ্রামের মোজফ্ফর সুদখোর মমিনের কাছ থেকে ১২ আনা সোনা বন্দক রেখে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নেয়। মোজফ্ফর যথা সময়ে ঋণ পরিশোধ করে। এ ঘটনায় নানা কৌশলে মোজফ্ফরের বন্ধু গোলাম মোর্তজাকে মিথ্যা ঋণের জালে ফেলে বিভিন্নভাবে হয়রাণি করছে। গত ২৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় মমিন ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনী বণি তালতলায় গোলাম মোর্তজার গতিরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।


বিজ্ঞাপন

এসময় তারা গোলাম মোর্তজার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিশের টাকা জানতে চাইলে খুন করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এমনকি পরিবারের সদস্যদের কেউ হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় গোলাম মোর্তজা ঝিকরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শুধু এ রকম মোজফ্ফর, গোলাম মোর্তজাই নয়, আরো অনেকেই সুদে কারবারী মমিনের ঋণে জালে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, মমিন বাহিনী ৫ আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে শুরু করে চাঁদাবাজি। অনেকেই চাঁদা দিয়ে সর্বশান্ত হয়ে দেশ ছেড়ে দেশান্তর হয়েছেন। এলাকার বৃদ্ধ নফিরুদ্দি ও শের আলীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে মমিন গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে গোলাম মোর্তজা বলেন, আমি থানায় মামলা করার জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ সুদখোর, কিশোর গ্যাং ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে আব্দুল মমিনের কাছে ফোন করা হলে তার দোকানের কর্মচারি জানায়, মমিন দোকানে নেই। ফোন রেখে কোথাও গেছে।

মামলা রেকর্ড না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে ঝিকরগাছা থানার এসআই অহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই ছোটখাটো বিষয়। মামলার বিষয় না। আমি বিবাদীর সাথে দেখা করেছি। সময় করে দুই পক্ষকে ডেকে মিমাংসা করে দেব।

👁️ 256 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *