
অভিযুক্ত রতন মন্ডল।

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে ভয়াবহ হামলা, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, কুপিয়ে জখম, হাতুড়িপেটা এবং কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মন্দিরের কার্যকরী সভাপতি সনজীব কুমার দাসের দায়ের করা এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে—পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল হামলাকারী মন্দিরে প্রবেশ করে প্রার্থনা সভাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে।

এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪৫ থেকে ৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ মন্দিরে প্রার্থনা সভায় অংশ নিতে যান কার্যকরী সভাপতি সনজীব কুমার দাস। অভিযোগে বলা হয়, মন্দিরের সাবেক কমিটি সভাপতি অ্যাডভোকেট কালি পদ মৃধার নির্দেশে নৃপেন্দ্রনাথ হিরা, রতন মণ্ডল, পলাশ মণ্ডলসহ বিপুল সংখ্যক লোকজন লাঠিসোটা, লোহার রড, হাতুড়ি ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
বাদীর দাবি, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। হামলা থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বিশ্বজিৎ মল্লিক ও সম্পদ বড়ালকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বজিৎ মল্লিককে হত্যার উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়, এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে শিউলী নামে এক নারী সদস্যকেও মারধরের শিকার হতে হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, একাধিক স্বর্ণের আংটি ও বেইচ লাইটসহ প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ৬ নম্বর ও ১১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে সরাসরি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মন্দির প্রাঙ্গণে “সন্ত্রাসী কায়দায়” তাণ্ডব চালিয়ে উপস্থিত লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শাহবাগ থানার রেকর্ড অনুযায়ী, মামলাটি ২০ মে দায়ের করা হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর আলামিনকে। মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে, অভিযোগটি টাইপকৃত লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে মন্দিরকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার এবং কমিটি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার বিষয়টিও সামনে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল, যার রক্তাক্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলার মাধ্যমে।
এদিকে, এত বড় হামলা ও প্রকাশ্য অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনায় রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল। মামলার তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন
