
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত সচিবের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকলেও পদায়ন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক ধীরগতি নিয়ে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যোগ্য ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অপেক্ষায় থাকলেও নানা অদৃশ্য কারণে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দ্রুত পদায়ন করা হচ্ছে না, যার ফলে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অতিরিক্ত সচিবের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব পদে দ্রুত পদায়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া এগোচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।
প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, শূন্য পদগুলোতে পদায়ন বিলম্বিত হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে একই কর্মকর্তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ছে এবং মাঠপর্যায় পর্যন্ত সরকারি সেবার কার্যকারিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তরে নেতৃত্বের ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং নীতি বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


তবে বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে গুঞ্জন রয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত পদায়ন ও বদলি আদেশ পেতে অনেক ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ কিংবা অর্থনৈতিক সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে অন্য বিবেচনাই অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে।
যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘসূত্রতা ও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং প্রশাসনের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকা কোনো সুস্থ প্রশাসনিক ব্যবস্থার লক্ষণ নয়। তাদের মতে, পদায়ন ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আরও গভীর হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত পদায়নের পাশাপাশি বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ এবং জনসেবায় স্থবিরতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
