
কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমানে কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদের (৩০০১৬৮) পিতার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি লাভ ও অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্তে দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়,অর্থ মন্ত্রণালয়,জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ডা. দিপু মনির ঘনিষ্ঠ সহোচর,আওয়ামী লীগের ডোনার,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোহসিন হল কমিটির পদধারী নেতা এবং কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ আওয়ামী রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরিতে নিয়োগ লাভ করেছেন।

দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ডা. দিপু মনির বেআইনী হস্তক্ষেপে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে;মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২৮তম বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগ লাভ করেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে,২৮তম বিসিএসের ভাইভার ফলাফলে মোট ২,১৯০জনকে নিয়োগের জন্যে পিএসসি প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করে। মূলত: ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের কারনে তিনি ২৫ অক্টোবর-২০১০ তারিখে প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে অন্যান্যদের সাথে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাননি।
কেননা,পিএসসির সুপারিশের পর চূড়ান্ত নিয়োগের পূর্ববর্তী ভেরিফিকেশন পর্যায়ে এনএসআই ও এসবি’র প্রতিবেদনে তার ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনের বিষয়টি উঠে আসে। ফলে জনপ্রশাসনের চূড়ান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপন(নং-০৫.০০.০০০০.১৪৭.১১.০১১.১০-৩;তারিখ:২৫ অক্টোবর-২০১০) থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। পরবর্তিতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ডা. দিপু মনির হস্তক্ষেপে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ-কে ”প্রকৃত সনদ উল্লেখ পূর্বক ইতিবাচক পুন:রিপোর্ট দিতে এসবি ও এনএসআই-কে বাধ্য করা হয়”।
এই প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক নিয়োগের প্রায় ১৪ মাস পর বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে (রেজি নং-০০৮৮৯৫;প্রাধিকার কোটা ক্রমিক নং-২৪;প্রজ্ঞাপন নম্বর-০৫.০০.০০০০.১৪৭.১১.০১১.১০-৩;তারিখ: ৫ জানুয়ারী-২০১২) মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ কে নিয়োগ প্রদান করা হয়। শুল্ক ও আবগারী ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৮ জনের মধ্যে মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদের অবস্থান ছিল শেষ থেকে চতুর্থ।
বিগত প্রায় ১৫ বছরের চাকরি জীবনে মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ সকল কর্মস্থলে আকুন্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিলেন ।
যখন যেখানে কর্মরত ছিলেন সেখানেই ঘুষের হাট বসিয়েছেন। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ঢাকা শহরে দুটি বাড়ি,অন্তত: ১০টি ফ্লাট,একাধিক প্লট,দোকান,কয়েক বিঘা ভূসম্পদ ও কয়েক কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক হয়েছেন। মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদ ও তার স্ত্রী খোদেজা মোমেনসহ পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকার বিভিন্ন ব্যাংকে অর্ধ শতাধিক ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে কয়েক কোটি টাকা এফডিআর করে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্যে মুহাম্মদ মাহফুজ আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে ও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার কোন প্রকার বক্তব্য প্রকাশিত হলো না। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অত্র প্রতিবেদনে যোগ করা হবে।
