
নিজস্ব প্রতিবেদক, (সিলেট) : সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ভূমিকা ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ডা. মাহমুদুল হক রিফাতকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার (সাইকিয়াট্রি) হিসেবে পদায়নের পর ক্যাম্পাস ও চিকিৎসক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত ২৩ জুলাই এ পদায়নের আদেশ জারি করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, বর্তমানে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত ডা. রিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মূল পদ সহকারী সার্জন।
ডা. মাহমুদুল হক রিফাত ২০১৭ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান। ওই সময় সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের অনুমোদিত চার সদস্যের আংশিক কমিটিতে তাকে সভাপতি এবং সজল এস চক্রবর্তীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।

তবে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকার সময় ক্যাম্পাসে প্রভাব বিস্তার, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি ও তার সহযোগীরা।

২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল ওসমানী মেডিকেল কলেজের আবু সিনা ছাত্রাবাসে ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফুল হককে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার কথা সামনে আসে এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করা হয় মাহমুদুল হক রিফাত ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সজল এস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সজল এস চক্রবর্তী বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় সজল চক্রবর্তীসহ আটজন সাবেক ও তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
একাডেমিক কাউন্সিলের ওই সিদ্ধান্তের পরও গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে তাকে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে প্রভাব বিস্তার, ভয়ের পরিবেশ তৈরি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ প্রয়োগের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনিক অবস্থান এখনো প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে যখন নতুন করে মূল্যায়ন চলছে, তখন ওসমানী মেডিকেল কলেজে ডা. রিফাতের পদায়ন এবং সজল চক্রবর্তীর কর্মরত থাকা নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
তবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদায়ন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত—এমন অবস্থানও রয়েছে প্রশাসনিক মহলে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
