
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর কার্যক্রম নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সংগঠনটির আর্থিক ব্যয়, কমিটি গঠন, নিয়োগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমসহ মোট ১২টি অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানির নোটিশ জারি করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নোটিশে জানানো হয়, রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাসের ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখের আবেদনের ভিত্তিতে এসব অভিযোগের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
নোটিশ অনুযায়ী, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া রিহ্যাব তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়, স্ট্যান্ডিং কমিটি ও বিভিন্ন কমিটি গঠনে অনিয়ম, এজিএমের স্থান ও তারিখ নির্ধারণ, উত্তরা রিহ্যাব সেন্টারের জমিতে ভবন উদ্বোধন, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরিচ্যুতি, অফিসের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ, রিহ্যাব সামার ফেয়ার-২০২৬ আয়োজন, ক্রয়সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি বিলুপ্ত, সরকারি পর্যায়ে বৈঠক ও প্রতিনিধিত্ব, সভাপতির পক্ষাবলম্বনের অভিযোগে পরিচালকের সঙ্গে অসদাচরণ, মেম্বারশিপ ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পরিচালকদের অন্তর্ভুক্ত না করা, সিনিয়র সহ-সভাপতির অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতি-১-কে দায়িত্ব না দেওয়া এবং পরিচালনা পর্ষদের সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, দুপুর ১২টায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) তাঁর কার্যালয়ে এ শুনানির সভাপতিত্ব করবেন।


এদিকে, অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য রিহ্যাবের সভাপতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য রিহ্যাবের সভাপতি, অভিযোগকারী সহ-সভাপতি-১, এফবিসিসিআইর প্রশাসক, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের নিবন্ধকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সচিবালয়ে প্রবেশের ব্যবস্থা ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্যও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বাণিজ্য সংগঠন রিহ্যাবকে ঘিরে উত্থাপিত এসব অভিযোগের শুনানির ফলাফল সংগঠনটির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এ বিষয়ে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুনানি শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে রয়েছে।
