
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিনিধি (কুমিল্লা) : গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলামকে ঘিরে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিতর্কিত পদোন্নতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার এবং রাজধানীতে নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নজরুল ইসলাম একদিনে একাধিক পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন। এরপর তিনি বিভিন্ন সংগঠন ও সমিতির ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে নিয়মিত সভা-সমাবেশের আয়োজন করেন এবং একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ, পদায়ন ও প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করে নিজেদের অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং বদলির ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির তুষারধারা আবাসিক এলাকার একাধিক সেক্টরে নজরুল ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন বা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা, FAR, সেটব্যাক ও নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ভবনের কোনো কোনো ক্ষেত্রে অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ব্যবহার শুরু, পার্কিং স্পেস পরিবর্তন করে দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং অনুমোদিত নকশা পরিবর্তনের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অতীতে এসব ভবনের বিরুদ্ধে রাজউক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিযান, জরিমানা ও মুচলেকাও নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশন ও সামাজিক সংগঠনের আড়ালে অবৈধ সম্পদ অর্জন, নির্মাণ বিধি লঙ্ঘন এবং ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা কনটেক ডেভেলপার, ওয়ানল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদের উৎস, আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব এবং নির্মাণ কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), রাজউক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা : এ বিষয়ে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সম্পাদকের নোট : এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো অভিযোগকারীদের দাবি ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।
