মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ২১ ভবনের নিলাম ঘিরে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ  : তদন্ত দাবি, সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা প্রশাসনিক সংবাদ বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  : জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মিরপুর হাউজিং এস্টেটের ১৪ নম্বর সেকশনে অবস্থিত ২১টি চারতলা পুরাতন ভবনের নিলামকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর মিরপুর গৃহসংস্থান বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদের দিকে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুরো নিলাম প্রক্রিয়া বাতিল করে পুনরায় উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক নিলামের দাবি জানিয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারী দলিল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও একই দিন সকাল ১১টার মধ্যেই নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নেওয়ার ন্যূনতম সুযোগই পাননি।

তার অভিযোগ, প্রচলিত নিলাম বিধি অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতার জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়ার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেই মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হয়নি। এতে পুরো নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন

লিখিত আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ২১টি চারতলা ভবনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা হলেও সেগুলো মাত্র আড়াই কোটি টাকায় নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগকারীর দাবি, এই তথ্য সঠিক হলে সরকার প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারী মনে করেন, প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি নিলাম সম্পন্ন করা হয়ে থাকলে তা জনস্বার্থ, সুশাসন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই পুরো নিলাম প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিলাম আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কোনো অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মিরপুর গৃহসংস্থান বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিনই কীভাবে নিলাম সম্পন্ন হলো, সম্ভাব্য অংশগ্রহণকারীদের কেন পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ প্রকৃত বাজারমূল্যে বিক্রির স্বার্থ কতটা রক্ষা করা হয়েছে? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই পারে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে।

👁️ 39 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *