
নিজস্ব প্রতিবেদক : চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত হবে। অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনের গতিবিধি অনুসরণ করা যাবে। সেতু ও মহাসড়কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায় হবে টোল। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের তথ্য মুহূর্তেই যাচাই করা সম্ভব হবে—এমন উচ্চাভিলাষী প্রত্যাশা নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চালু করেছিল ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ব্যবস্থা।

কিন্তু প্রায় ১৪ বছর পর প্রশ্ন উঠেছে—বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি ব্যবস্থা আসলে কতটা কাজে এসেছে?
বিআরটিএর তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৯টি আরএফআইডি ট্যাগযুক্ত ডিজিটাল নম্বর প্লেট সরবরাহ করা হয়েছে। এসব প্লেটের বিপরীতে যানবাহন মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

অথচ যে অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে আরএফআইডির মূল সুবিধাগুলো পাওয়ার কথা ছিল, তার বড় অংশই আজও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৯৪টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই পর্যন্ত হয়েছে মাত্র ১২টি—সবগুলোই ঢাকায়।

চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনের গতিপথ অনুসরণ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ের জন্য যে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেটিও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ গাড়িতে প্রযুক্তি বসেছে, টাকা আদায় হয়েছে; কিন্তু সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোই তৈরি হয়নি।
আর এর মধ্যেই গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন প্রযুক্তি—জিপিএস ট্র্যাকার। ফলে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আরএফআইডির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন জিপিএস ব্যবস্থার পরিণতিও কি একই হবে?
২০১২ সালে বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা : ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর সব ধরনের যানবাহনের জন্য ডিজিটাল নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করে বিআরটিএ।
তখন বলা হয়েছিল, প্রতিটি গাড়িতে ডিজিটাল নম্বর প্লেটের পাশাপাশি আরএফআইডি ট্যাগ থাকবে। ফলে কোনো গাড়ি চুরি হলে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি শনাক্ত করা সহজ হবে। কোনো যানবাহন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলেও তার অবস্থান ও গতিপথ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেতু ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের পরিকল্পনাও ছিল।
তৎকালীন নির্ধারিত হিসাবে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার যানবাহনের ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগের জন্য নেওয়া হয় ২ হাজার ২৬০ টাকা। চার চাকার যানবাহনের জন্য নির্ধারণ করা হয় ৪ হাজার ৬২৮ টাকা। প্রযুক্তির সঙ্গে অর্থও গেল বিপুল। কিন্তু ১৪ বছর পরও প্রশ্ন রয়ে গেল—প্রতিশ্রুত সেবা গেল কোথায়?
৫৪ লাখের বেশি প্লেট, আদায় ১,৫১৬ কোটি টাকা :
বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৯টি আরএফআইডি ট্যাগযুক্ত ডিজিটাল নম্বর প্লেট।
এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৯টি নম্বর প্লেট যানবাহনে সংযোজন করেছেন মালিকরা। আরও ৫ লাখ ৬২০টি প্লেট পড়ে আছে বিভিন্ন সার্কেল অফিসে।
এসব নম্বর প্লেটের বিপরীতে যানবাহন মালিকদের কাছ থেকে বিআরটিএ আদায় করেছে মোট ১ হাজার ৫১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
শ্রেণিভিত্তিক হিসাবও তাৎপর্যপূর্ণ : ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৪টি ভারী যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ১১৫ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ২৩২ টাকা। ৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৮৭টি হালকা ও মধ্যম শ্রেণির যানবাহন থেকে আদায় হয়েছে ৪৩১ কোটি ৯২ লাখ ৫২ হাজার ২৩৬ টাকা। সবচেয়ে বেশি অর্থ এসেছে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার ৪২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৫৮টি যানবাহন থেকে—মোট ৯৬৯ কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অর্থাৎ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরও প্রযুক্তিটির মৌলিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বড় অংশ অনুপস্থিত। গাড়িতে আরএফআইডি আছে, কাজ কী—জানেন না মালিকরাই!
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর তথ্য : ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ১৪ জন মালিকের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন ছাড়া অন্যরা জানেন না গাড়িতে থাকা আরএফআইডি ট্যাগটির প্রকৃত কাজ কী।
পুরানা পল্টন এলাকার মোটরসাইকেল মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, গাড়ি কেনার পর ডিজিটাল নম্বর প্লেট নিতে হয়। তাঁর কাছে এটি মূলত গাড়ির রেজিস্ট্রেশনেরই একটি অংশ।
অর্থাৎ যে প্রযুক্তিকে ঘিরে চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত থেকে শুরু করে অপরাধ দমন এবং স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের মতো বড় বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অনেক গাড়িমালিকই কার্যত অন্ধকারে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক শুব্রত মন্ডলের ঘটনা।
তাঁর মোটরসাইকেল আট মাসেরও বেশি আগে চুরি হয়েছে। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর কয়েকবার যোগাযোগ করেও তিনি গাড়িটির সন্ধান পাননি।
প্রশ্ন হচ্ছে—চুরি যাওয়া গাড়ি শনাক্ত ও উদ্ধারে সহায়তা করাই যদি আরএফআইডি ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য হয়, তাহলে বাস্তবে সেই প্রযুক্তির সুবিধা কোথায়?
৯৪ চেকপোস্টের স্বপ্ন, বাস্তবায়ন মাত্র ১২ : আরএফআইডি ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৯৪টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।
উদ্দেশ্য ছিল এসব চেকপোস্টে আরএফআইডি ট্যাগ শনাক্ত করে সন্দেহজনক, চুরি যাওয়া কিংবা অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন দ্রুত শনাক্ত করা।
কিন্তু ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই পর্যন্ত বাস্তবে স্থাপন করা হয়েছে মাত্র ১২টি চেকপোস্ট। সবগুলোই ঢাকার মধ্যে।
অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাখ লাখ যানবাহনে আরএফআইডি প্রযুক্তি যুক্ত থাকলেও সেগুলো শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য পরিকল্পিত ৯৪টি পয়েন্টের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ১২টি।
তার ওপর এসব কেন্দ্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পৃথক জনবলও নিয়োগ করতে পারেনি বিআরটিএ।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—প্রযুক্তি যদি থাকে, কিন্তু প্রযুক্তি পড়ার যন্ত্র না থাকে; তথ্য যদি থাকে, কিন্তু তা বিশ্লেষণ ও ব্যবহারের জনবল না থাকে—তাহলে সেই প্রযুক্তির বাস্তব মূল্য কতটুকু?
শুধু নম্বর প্লেট নয়, ছিল পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পরিবহন ব্যবস্থার স্বপ্ন
ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি প্রকল্পের পরিকল্পনা শুধু গাড়ির পরিচয় নিশ্চিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
পরিকল্পনা ছিল একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার।
আরএফআইডির মাধ্যমে কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করার কথা ছিল।
প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হিসেবে বলা হয়েছিল, নম্বর প্লেট রাতে প্রায় ৪০ ফুট দূর থেকেও দৃশ্যমান হবে এবং আরএফআইডি চিপ প্রায় ১১ মিটার দূর থেকে স্ক্যান করা যাবে।
এসব তথ্য বিআরটিএর কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও থাকার কথা ছিল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন : প্রযুক্তির সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বিত অবকাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ১৪ বছরেও পুলিশের সঙ্গে কার্যকর ডিজিটাল সংযোগ নেই, প্রকল্প শুরুর প্রায় ১৪ বছর পরও বিআরটিএর কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে পুলিশের কার্যকর ডিজিটাল সংযোগ স্থাপিত হয়নি।
এর ফলে আরএফআইডি ব্যবহার করে পুলিশ চুরি যাওয়া গাড়ি কিংবা অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন শনাক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে না।
পুলিশকে এখনো নিজস্ব প্রযুক্তি, তথ্যসূত্র এবং প্রচলিত তদন্ত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেই গাড়ি চুরি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. নিয়াজ মেহেদী বলেন, আরএফআইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা না যাওয়ায় পুলিশ নিজস্ব প্রযুক্তি ও তথ্যসূত্র কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমন এবং চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা করে।
বিআরটিএর মাসিক প্রতিবেদন থেকে মূলত ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।
এখানেই প্রকল্পটির অন্যতম বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যে প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল, সেই সংযোগই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
পুরোনো প্রকল্পের সুফল না মিলতেই নতুন জিপিএস বাধ্যতামূলক
আরএফআইডির কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত না হওয়ার মধ্যেই এবার গণপরিবহনে আরেক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১১ জুন জিপিএস ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযোজন এবং সেটি সচল রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত কারিগরি বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জিপিএস ডিভাইস স্থাপন করতে হবে। ডিভাইস সংযুক্ত ও কার্যকর থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণপরিবহনের রেজিস্ট্রেশন এবং ফিটনেস সনদ দেওয়া বা নবায়ন করা হবে।
সরকারের লক্ষ্য—নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গণপরিবহনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো।
কিন্তু আগের প্রকল্পের অভিজ্ঞতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আরএফআইডির মতো জিপিএসও কি একদিন শুধু গাড়িতে লাগানো একটি ডিভাইস হয়ে থাকবে?
বিআরটিএ বলছে, এবার সুফল মিলবে : বিআরটিএর উপপরিচালক ফারুক হোসেন বলেন, গত ১৪ বছরে প্রায় অর্ধকোটি যানবাহনে ডিজিটাল নম্বর প্লেট সংযোজন করা হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং এখন এর সুফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব না হওয়ার পেছনে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যমান জনবল দিয়েই সার্ভার মনিটরিংসহ বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির ডিজিটাল নম্বর প্লেট বিভাগের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেজর রেজাউল ইসলাম বলেন, এ ব্যবস্থার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত। প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে জনগণ এর সুফল পাবেন।
তাঁর দাবি, বিএমটিএফের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে।
অর্থাৎ বাস্তবায়নের ঘাটতির দায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; একাধিক সংস্থা ও বিভাগের সমন্বয়ের ওপরই নির্ভর করছে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা।
বিশেষজ্ঞের প্রশ্ন: প্রযুক্তি আছে, অবকাঠামো কোথায় ?
পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি প্রকল্পের উদ্দেশ্য ইতিবাচক ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি না করায় জনগণ এর সুফল পায়নি।
তিনি বলেন, অনেক গাড়িতে আরএফআইডি ট্যাগ বসানো হলেও স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানে রিডার স্থাপন করা হয়নি। ফলে প্রযুক্তি থাকার পরও সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।
একই সঙ্গে প্রথম দিকে স্থাপন করা অনেক আরএফআইডি ট্যাগ বর্তমানে কার্যকর আছে কি না, সেটিও প্রশ্নের বিষয় বলে মনে করেন তিনি।
গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আগের প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার শুরুতেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, তথ্য ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই : ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। ৫৪ লাখের বেশি আরএফআইডি ট্যাগযুক্ত ডিজিটাল নম্বর প্লেট সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ৯৪টি পরিকল্পিত চেকপোস্টের মধ্যে হয়েছে মাত্র ১২টি। পুলিশের সঙ্গে কার্যকর ডিজিটাল সংযোগও নেই।
তাহলে ১৪ বছর ধরে যে প্রযুক্তিকে ঘিরে চুরি যাওয়া গাড়ি উদ্ধার, অপরাধ দমন, গাড়ির গতিপথ অনুসরণ ও স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল—তার কতটুকু বাস্তবে জনগণের কাজে এসেছে?
নতুন জিপিএস ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও যদি আগে ডিভাইস বসানো হয়, পরে অবকাঠামো ও সমন্বয়ের কথা ভাবা হয়, তাহলে অতীতের একই ভুল আবারও ফিরে আসতে পারে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা তাই একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়— প্রযুক্তি থাকবে, গাড়িতে ডিভাইসও থাকবে, বিপুল অর্থও ব্যয় হবে; কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, তথ্যের সমন্বয় ও ব্যবহার নিশ্চিত না হলে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সেবা কি আবারও জনগণের নাগালের বাইরে থেকে যাবে ?
আরএফআইডির ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে—শুধু প্রযুক্তি কিনলেই ডিজিটাল পরিবহন ব্যবস্থা হয় না; প্রযুক্তিকে কার্যকর করার রাষ্ট্রীয় সক্ষমতাই আসল।
চাইলে এটিকে আমি আরও �“প্রথম পাতার লিড/ব্যানার রিপোর্ট” স্টাইলে, আরও ধারালো শিরোনাম ও সাবহেড দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারি।
