নিষিদ্ধ যুব মহিলা লীগের নেত্রী এষা রাজধানীতে বহাল তবিয়তে  :  নেপথ্যে ‘দল গোছানোর’ অভিযোগ

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী রাজনীতি সংগঠন সংবাদ সারাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক  :  কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আকলিমা আক্তার এষাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে গেলেও যুব মহিলা লীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এষা রাজধানীতে অবস্থান করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন—এমন অভিযোগ বিভিন্ন সূত্রের।


বিজ্ঞাপন

শুধু রাজধানীতে অবস্থানই নয়, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকলেও নেপথ্যে নিজস্ব কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন—এমন গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়া থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতৃত্বে  :  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অতীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সক্রিয় ছিলেন আকলিমা আক্তার এষা। ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে উত্থান ঘটিয়ে পরবর্তীতে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেন তিনি।


বিজ্ঞাপন

জানা যায়, এষা একসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক হন।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন—ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনামলে যারা বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব ভোগ করেছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যাওয়ার পর তাদের ভূমিকা কি কেবল প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ? নাকি আড়ালে পুরোনো নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে?

ব্যাংকের চাকরি, বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে  :  একাধিক সূত্রের দাবি, আকলিমা আক্তার এষা বর্তমানে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের মিরপুর শাখায় কর্মরত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি রাজধানীর মিরপুরে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে তার বর্তমান অবস্থান, চাকরির অবস্থা ও ছুটিসংক্রান্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রকাশ্যে নীরব, আড়ালে যোগাযোগের অভিযোগ :   রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্য উপস্থিতি না থাকলেও এষা তার অনুসারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন—এমন দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব ও পুরোনো যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সংগঠন গোছানোর চেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের পুনরায় সংগঠিত করার যে তৎপরতার কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে, তার সঙ্গে এষার নামও উঠে এসেছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কোথায় ?
এখানেই সামনে আসছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কোনো সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর সেই সংগঠনের নেতাদের কেউ যদি গোপনে সাংগঠনিক যোগাযোগ বজায় রাখেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি কোথায় ?

রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, অতীতে ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে পড়ে থাকবে, নাকি নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হবে?

বিশেষ করে নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে যদি কেউ নতুন করে কর্মী সংগঠিত করার চেষ্টা করেন, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন কিংবা রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি  :  আকলিমা আক্তার এষাকে ঘিরে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অতীতের ক্ষমতার প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

তবে এসব অভিযোগের নির্দিষ্ট ঘটনা, আর্থিক লেনদেন বা দুর্নীতির প্রমাণ প্রতিবেদনের হাতে নেই। ফলে অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে কেউ যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে তার সম্পদ, আর্থিক লেনদেন ও কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা উচিত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য  :  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সদস্য বা নেতা-কর্মী আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতা কিংবা গোপন সাংগঠনিক তৎপরতায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আকলিমা আক্তার এষার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো প্রকাশ্য গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বক্তব্য মেলেনি এষার  :  অভিযোগের বিষয়ে আকলিমা আক্তার এষার বক্তব্য জানতে ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রশ্ন এখন একটাই—নেটওয়ার্ক ভেঙেছে, নাকি আড়ালে সক্রিয়?
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে সরে গেলেও পুরোনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক কতটা ভেঙে পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবে অতীতে সক্রিয় থাকা আকলিমা আক্তার এষাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে নীরব থাকা আর সাংগঠনিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ রাখা—দুটি বিষয় এক নয়। ফলে তার কথিত যোগাযোগ, রাজনৈতিক ভূমিকা, আর্থিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ড এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ সত্য হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করা—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ অনুসন্ধান জরুরি। কারণ নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেটওয়ার্ক যদি প্রকাশ্যে নয়, আড়ালে পুনর্গঠনের চেষ্টা করে থাকে, তাহলে সেটি শুধু রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত নেপথ্যে যোগাযোগ, ‘দল গোছানো’, :  সাংগঠনিক তৎপরতা, অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগগুলো বিভিন্ন সূত্রের দাবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

👁️ 30 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *