প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরে ৫৭১ কোটি টাকার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ : লাইসেন্স ও উপকেন্দ্র অনুমোদনে ‘অতিরিক্ত অর্থের’ জাল—মাঠকর্মী থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা তদন্তের দাবি !

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী সারাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরকে ঘিরে গত কয়েক বছরে অনিয়ম, ঘুষ এবং সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বৈদ্যুতিক লাইসেন্স, উপকেন্দ্র অনুমোদনসহ বিভিন্ন সেবায় সরকারি নির্ধারিত ফির পাশাপাশি আবেদনকারীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কথিত এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৫৭১ কোটি টাকা বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

তবে এই বিপুল অর্থের হিসাব, লেনদেনের উৎস ও অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো কতটা সত্য, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কথিত অর্থের প্রকৃত প্রবাহ কোথায়—তা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

লাইসেন্সে সরকারি ফির বাইরে ‘অতিরিক্ত অর্থ’ ?  অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বৈদ্যুতিক লাইসেন্সের আবেদনকারীদের কাছ থেকে সরকারি ফি নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অজুহাতে বাড়তি অর্থ দাবি করা হতো। নিয়ম মেনে আবেদন করেও অনেককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে সম্মত হলে দ্রুত লাইসেন্স বা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো বলে দাবি করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

অভিযোগে বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দপ্তরের কর্মচারীদের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এবং আবার কোথাও মধ্যস্থতাকারী বা কথিত দালালের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযোগ সত্য হলে সরকারি সেবা প্রদানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকার—তিনটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।


বিজ্ঞাপন

চার খাতে কথিত ৫৭১ কোটি টাকার হিসাব :অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে চারটি খাতে কথিত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের চিত্রটি বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উপকেন্দ্র অনুমোদন:

প্রায় ১৭ হাজার ১৫১টি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র অনুমোদনের ক্ষেত্রে ফাইলপ্রতি এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, এ খাতে কথিত লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৩৪৩ কোটি টাকা।
ঠিকাদারি লাইসেন্স: প্রায় ৫ হাজার ৪০৭টি লাইসেন্সের বিপরীতে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রায় ৩২ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের দাবি করা হয়েছে।

সুপারভাইজার লাইসেন্স: প্রায় ১১ হাজার ২৩৭টি লাইসেন্সের ক্ষেত্রে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের হিসাবে এ খাতে প্রায় ১২৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স: প্রায় ৪৮ হাজার ১৫৩টি লাইসেন্সের বিপরীতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে এ খাতে কথিত অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭২ কোটি টাকা।

চার খাতের এই হিসাব যোগ করে অভিযোগকারীরা মোট প্রায় ৫৭১ কোটি টাকা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি করছেন। তবে এই অঙ্কের ভিত্তি, হিসাবের পদ্ধতি এবং প্রতিটি লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।

পরীক্ষাতেও ‘প্রশ্ন ফাঁসের’ অভিযোগ : অভিযোগ শুধু টাকা নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। লাইসেন্স পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কিছু আবেদনকারীকে পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর এবং ভাইভায় প্রদর্শিত হতে পারে—এমন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ছবি আগেই সরবরাহ করা হতো। প্রকৌশলী আল-আমিন হোসেন অভিযোগ করেছেন, ভাইভা বোর্ডের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার পরও তিনি লাইসেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তার দাবি, তার পাশে থাকা এক প্রার্থীকে কোনো প্রশ্নের মুখোমুখি না হয়েও কথিত দালালের মাধ্যমে ‘এবিসি’ ক্যাটাগরির লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সত্য হলে শুধু দুর্নীতিই নয়, পুরো লাইসেন্সিং পরীক্ষার নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়।

কর্মচারীদের নাম, নজরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা : অভিযোগের সঙ্গে প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরের অফিস সহকারী সাখাওয়াত বাবু এবং কম্পিউটার অপারেটর উইলিয়াম-এর নামও এসেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনকারী ও পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্থ সংগ্রহ এবং তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তারা ভূমিকা রাখতেন। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং আবেদনকারী ও পরীক্ষার্থীদের তথ্য আলাদা ডাটাবেজে সংরক্ষণের অভিযোগও রয়েছে।

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি উঠছে—যদি দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক আবেদন, লাইসেন্স ও উপকেন্দ্র অনুমোদনের সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরের বাইরে ছিল কি না? বিশেষ করে উপ-প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক ও বিদ্যুৎ লাইসেন্সিং বোর্ডের সদস্য সচিব প্রকৌশলী আতোয়ার রহমান মোল্লার দায়িত্ব ও ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তিনি অনিয়মে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, নথিতে স্বাক্ষর, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব কার্যক্রম পর্যালোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি নির্ধারণ করা উচিত।

সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগ, : প্রয়োজন উৎস অনুসন্ধানের
অভিযোগে কয়েকজন কর্মচারীর সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিস সহকারী সাখাওয়াত বাবুর নামে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের জমি থাকার তথ্য রয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর উইলিয়ামের নামে বাঘারপাড়ায় একটি বহুতল ভবনের তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৌশলী আতোয়ার রহমান মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ফ্ল্যাট, প্লট ও অন্যান্য সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তবে সম্পদের মালিকানা বা বাজারমূল্য দিয়ে দুর্নীতির প্রমাণ হয় না। এসব অভিযোগ যাচাই করতে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব, দলিলপত্র এবং সম্পদের অর্থের উৎস পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ডিজিটাল লেনদেনের ফরেনসিক তদন্তের দাবি :অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল যোগাযোগের ব্যবহার।

অভিযোগকারীদের দাবি, আবেদনকারীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে অর্থ নেওয়া এবং পরে কুরিয়ার বা অন্য কোনো মাধ্যমে লাইসেন্স পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, ফোনকলের তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ এবং দপ্তরের কম্পিউটার ও ডাটাবেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। ডিজিটাল ফরেনসিকের মাধ্যমে কথিত অর্থ লেনদেনের সময়, প্রাপক, যোগাযোগকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট আবেদন বা লাইসেন্সের মধ্যে কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হতে পারে।

নথি ও ডাটাবেজ সংরক্ষণ জরুরি : মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মচারীর দায়িত্ব পরিবর্তন বা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট নথি, কম্পিউটার, ডাটাবেজ ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য অক্ষত রাখার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তদন্তের স্বার্থে গত পাঁচ বছরের— সব লাইসেন্সের আবেদন ও অনুমোদনের তালিকা; উপকেন্দ্র অনুমোদনের সম্পূর্ণ নথ, সরকারি ফি ও আদায়কৃত অর্থের হিসাব,  লাইসেন্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ফলাফল, ভাইভা বোর্ডের নথি, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটশিট ও স্বাক্ষর, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, অফিসের কম্পিউটার, সার্ভার ও ডাটাবেজ লগ বই, প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ সংরক্ষণ ও যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তদন্তের দাবি :অভিযোগের একটি অংশে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা কারও সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ বিষয়ে কোনো অর্থনৈতিক বা প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া-নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে কি না, তা নথি ও আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ : প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের দপ্তরের মতো একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে যদি ৫৭১ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের মতো অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের বিষয় নয়; বরং সরকারি সেবা ব্যবস্থার জবাবদিহি, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।

এ কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে।
পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে পৃথক অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্টদের সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের যাচাই এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধানের দাবিও রয়েছে।

উত্তর খুঁজছে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্ন : গত পাঁচ বছরে আসলে কতগুলো লাইসেন্স ও উপকেন্দ্র অনুমোদন হয়েছে ? সরকারি ফি কত আদায় হয়েছে? আবেদনকারীরা বাস্তবে কত টাকা দিয়েছেন ? কথিত অতিরিক্ত অর্থ কোথায় গেছে ? কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ব্যক্তিগত কিংবা পরিবারের সদস্যদের হিসাবে অস্বাভাবিক অর্থ প্রবেশ করেছে কি না? লাইসেন্স পরীক্ষায় প্রশ্ন বা তথ্য আগাম সরবরাহের অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না ? আর এত বড় একটি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়ে থাকলে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের তদারকি কোথায় ছিল ? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে কেবল নথি, আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদভিত্তিক একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তে।

আতোয়ার রহমান মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি : অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী আতোয়ার রহমান মোল্লার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগে নাম আসা অন্যান্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও তদন্তের সময় গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সবশেষে, ৫৭১ কোটি টাকার অভিযোগটি সত্য, আংশিক সত্য নাকি হিসাবের ভুল—তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন অনুচিত, তেমনি গুরুতর অভিযোগকে তদন্ত ছাড়াই উপেক্ষা করাও সমানভাবে অনভিপ্রেত।

সরকারি নাগরিক সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই এখন সবচেয়ে জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তির বিষয়টিও স্পষ্টভাবে জানানো—দুই ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

👁️ 19 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *