আমেরিকার পতন, নাকি বিশ্বব্যবস্থার মহাপরিবর্তন ? আগামী ৫–৭ বছরেই কি বদলে যাবে ডলার, তেল ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক ক্ষমতার মানচিত্র ?

Uncategorized অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বিশেষ প্রতিবেদন রাজনীতি

আমেরিকার পতন, নাকি বিশ্বব্যবস্থার মহাপরিবর্তন ? আগামী ৫–৭ বছরেই কি বদলে যাবে ডলার, তেল ও প্রযুক্তির বৈশ্বিক ক্ষমতার মানচিত্র ? ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ, যুদ্ধের ব্যয়, হরমুজে জ্বালানি ঝুঁকি, চীনের উৎপাদনশক্তি ও ডি-ডলারাইজেশন—একসঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ


বিজ্ঞাপন

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  :  আমেরিকা কি পতনের পথে ? প্রশ্নটি শুনতে যতটা চমকপ্রদ, উত্তরটি ততটা সরল নয়। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্র ভেঙে পড়বে, ডলার মূল্যহীন হয়ে যাবে কিংবা ওয়াশিংটনের বৈশ্বিক প্রভাব রাতারাতি শেষ হয়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কিন্তু বিশ্বব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হয়েছে, তা আগামী ৫ থেকে ৭ বছরে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি প্রশ্ন— বিশ্ব কি ধীরে ধীরে একক মার্কিন আধিপত্য থেকে বহু-কেন্দ্রিক শক্তির ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?


বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আগস্ট ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। একই সময়ে ঋণের সুদব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন এবং সরকারি ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।


বিজ্ঞাপন

এটি কোনো একক সংকট নয়। বরং ঋণ, যুদ্ধ, জ্বালানি, চীন, রাশিয়া, ইরান এবং বৈশ্বিক মুদ্রাব্যবস্থার পরিবর্তন—সবকিছু যেন একই সময়ে একটি বড় ভূরাজনৈতিক পরীক্ষার সামনে যুক্তরাষ্ট্রকে দাঁড় করিয়েছে।

৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ—শুধুই কি একটি সংখ্যা  ?যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এক দশকেরও কম সময়ে এই ঋণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এর বড় অংশ এসেছে দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি, মহামারি-পরবর্তী ব্যয়, সুদ পরিশোধ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির ব্যয় থেকে।
সমস্যা শুধু ঋণের পরিমাণে নয়। সমস্যা হলো—ঋণের ওপর সুদ।

সরকার যত বেশি ঋণ নেয়, সুদের হার যত বেশি থাকে, ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের খরচ তত বাড়ে। সেই অর্থ বাজেটের অন্য খাত থেকে সরাতে হয় অথবা নতুন করে ঋণ নিতে হয়।
ফলে তৈরি হতে পারে একটি বিপজ্জনক চক্র— বেশি ঋণ → বেশি সুদ → বড় বাজেট ঘাটতি → আরও ঋণ।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় ইতোমধ্যে বিশাল আকার নিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের উচ্চ ফলন ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা—ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্র দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির আকার, ডলারের বৈশ্বিক ভূমিকা এবং মার্কিন আর্থিক বাজারের গভীরতা এখনো অসাধারণ শক্তিশালী। কিন্তু ঋণের চাপ যে ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ—তা অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।

যুদ্ধের খরচ শুধু আজকের নয় একটি যুদ্ধ শুরু হলে খরচ শুধু অস্ত্র কেনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না। অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠন করতে হয়। গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়াতে হয়। সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। জ্বালানি, পরিবহন ও রসদের ব্যয় বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হয়।

আর এসব ব্যয়ের বড় অংশ যদি ঋণ নিয়ে মেটানো হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও তার আর্থিক বোঝা পড়ে।
এর সঙ্গে যদি যুক্ত হয় জ্বালানি সংকট, তাহলে অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হতে পারে।

হরমুজে সংকট মানে বিশ্ববাজারে ধাক্কা৷ :  ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো জ্বালানি সরবরাহ। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ। সেখানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে প্রায় সর্বত্র  : 
তেল বাড়ে → পরিবহন ব্যয় বাড়ে → উৎপাদন খরচ বাড়ে → পণ্যের দাম বাড়ে → মূল্যস্ফীতি বাড়ে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি রাখতে হলে সরকারের ঋণের সুদব্যয়ও বাড়তে পারে। অর্থাৎ একটি ভূরাজনৈতিক সংঘাত শেষ পর্যন্ত গিয়ে আঘাত করতে পারে অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায়—ঋণ ও সুদে।

কিন্তু আসল প্রতিদ্বন্দ্বী চীন  :  যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে রয়েছে চীন। আমেরিকার হাতে ডলার, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী পুঁজিবাজার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, উন্নত প্রযুক্তি এবং বিশাল সামরিক শক্তি। চীনের হাতে অন্য ধরনের শক্তি—বিশাল উৎপাদন সক্ষমতা। ইলেকট্রিক গাড়ি, ব্যাটারি, জাহাজ, শিল্পপণ্য, প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীন বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

সহজ ভাষায়— আমেরিকা বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী ; চীন বিশ্বের উৎপাদন ব্যবস্থায় শক্তিশালী। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিযোগিতা শুধু বাণিজ্যযুদ্ধ নয়। এটি প্রযুক্তি, শিল্প, সরবরাহব্যবস্থা, জ্বালানি, মুদ্রা এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা।

রাশিয়ার অভিজ্ঞতা বদলে দিয়েছে হিসাব  :  রাশিয়াও এই পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তেল, গ্যাস, ধাতু ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিকল্প বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক রিজার্ভ জব্দ হওয়ার অভিজ্ঞতা। ফলে বিশ্বের কিছু দেশ নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে— একটি দেশের মুদ্রা ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা কতটা নিরাপদ?

এই প্রশ্ন থেকেই বাড়ছে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির আগ্রহ। ডি-ডলারাইজেশন—ডলারকে বাদ দেওয়া নয় এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। ডি-ডলারাইজেশন মানে বিশ্বের দেশগুলো একসঙ্গে ডলার পরিত্যাগ করবে—এমন নয়। বরং এর অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক রিজার্ভে ডলারের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কিছুটা কমানো। কেউ বেশি সোনা রাখবে।
কেউ ইউয়ান ব্যবহার করবে। কেউ স্থানীয় মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য করবে। কেউ আবার একাধিক মুদ্রা ও সম্পদের মধ্যে ঝুঁকি ভাগ করে নেবে।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশ দীর্ঘমেয়াদে কমেছে; তবে একই সঙ্গে ডলারের আধিপত্য এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। অর্থাৎ এটি সরল কোনো ‘ডলার শেষ’ গল্প নয়; বরং ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য আনার প্রবণতা।

২০টি বা ৫০টি দেশ যদি একই পথে হাঁটে ? একটি দেশ ডলারের ব্যবহার কমালে বড় কোনো পরিবর্তন হয় না।
কিন্তু যদি কয়েক ডজন দেশ ধীরে ধীরে নিজেদের বাণিজ্য, রিজার্ভ ও আর্থিক ব্যবস্থায় বিকল্প তৈরি করে, তখন সম্মিলিত প্রভাব বড় হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা কমে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ নিতে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হতে পারে। এর ফল আবার ফিরে আসতে পারে সেই একই চক্রে— বেশি সুদ → বেশি সুদব্যয় → বড় ঘাটতি → আরও ঋণ। সাম্প্রতিক মার্কিন ট্রেজারি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ফলন নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, সেটি এই আলোচনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ ? এখনই নয়। এবং এখানেই সবচেয়ে বড় ভুলটি হতে পারে। ডলার এখনো বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রাগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার, প্রযুক্তি, আর্থিক অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা এমন শক্তিশালী যে অদূর ভবিষ্যতে ডলারের সম্পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। বরং সম্ভাব্য পরিবর্তনটি হতে পারে অনেক বেশি সূক্ষ্ম।
ডলার থাকবে। কিন্তু তার পাশাপাশি সোনা বাড়বে।
ইউয়ান বাড়বে। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়বে। আঞ্চলিক আর্থিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে। অর্থাৎ পৃথিবী হয়তো ডলারকে বাদ দেবে না—কিন্তু ডলারের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে শুরু করবে।

এটাই কি আমেরিকার ‘পতন’ ? সম্ভবত প্রশ্নটি নতুনভাবে করা দরকার। আমেরিকার পতন মানে কি আমেরিকার অর্থনীতি ধসে পড়া? নাকি পতন মানে একক বৈশ্বিক আধিপত্যের অবসান?
দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুক্তরাষ্ট্র হারিয়ে যেতে হবে—এমন নয়। বরং এমন একটি পৃথিবী তৈরি হতে পারে যেখানে আমেরিকা শক্তিশালী থাকবে, কিন্তু তার পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, ভারত, ইউরোপ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তিও নিজেদের প্রভাববলয় বাড়াবে। অর্থাৎ এটি হতে পারে আমেরিকার পতনের চেয়ে বেশি—একক আধিপত্যের অবসান।

আগামী ৫–৭ বছর: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়  :  পরবর্তী ৫ থেকে ৭ বছর তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এই সময়ে নজর রাখতে হবে কয়েকটি বিষয়ের দিকে— প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ সামলায়। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কোন দিকে যায়। তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। চতুর্থত, চীন কতটা দ্রুত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থায় নিজের আধিপত্য বাড়াতে পারে। পঞ্চমত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের পাশাপাশি বিকল্প মুদ্রা ও সোনার ব্যবহার কতটা বাড়ে। এই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে আগামী দশকের বিশ্বব্যবস্থার চেহারা।

শেষ কথা  :  আমেরিকা আগামীকাল শেষ হয়ে যাবে—এমন কথা হাস্যকর। কিন্তু এটাও ভুল হবে যদি ধরে নেওয়া হয় যে আজকের বিশ্বব্যবস্থা চিরকাল একই থাকবে। ইতিহাসে কোনো পরাশক্তির অবস্থান সাধারণত একদিনে বদলায় না। পরিবর্তন আসে ধীরে ধীরে। প্রথমে বাণিজ্যের পথ বদলায়। তারপর মুদ্রার ব্যবহার বদলায়। প্রযুক্তির কেন্দ্র বদলায়। জ্বালানির বাজার বদলায়। এরপর বদলায় দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা।

একদিন হয়তো দেখা যাবে— ডলার আছে, কিন্তু আগের মতো একক আধিপত্য নেই। আমেরিকা আছে, কিন্তু আগের মতো একক কেন্দ্র নয়। চীন আছে, রাশিয়া আছে, ভারত আছে—আর বিশ্ব ক্রমেই বহু-কেন্দ্রিক। সেই অর্থে আগামী ৫–৭ বছরের আসল লড়াই শুধু আমেরিকা বনাম চীন নয়। এটি আরও বড় একটি লড়াই—কার মুদ্রা চলবে? কার তেল চলবে? কার প্রযুক্তি চলবে?

কার শিল্প পৃথিবীকে সরবরাহ করবে? আর শেষ পর্যন্ত—বিশ্ব কার ওপর নির্ভর করবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর বদলে গেলেই বদলে যাবে বিশ্বব্যবস্থার ক্ষমতার মানচিত্র।

আমেরিকা হয়তো পতনশীল কোনো সাম্রাজ্য নয়। কিন্তু বিশ্ব যদি ধীরে ধীরে আমেরিকাকে ছাড়া চলতে শিখে যায়—তাহলেই শুরু হবে ইতিহাসের সবচেয়ে নীরব, অথচ সবচেয়ে গভীর ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন।

👁️ 373 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *