নরসিংদীতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, চাপ বাড়ছে হাসপাতালে

Uncategorized গ্রাম বাংলার খবর জন দুর্ভোগ বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ স্বাস্থ্য

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, (নরসিংদী) :  নরসিংদীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ফলে হাসপাতালে ধারণ ক্ষমতার তিনগুন রোগী ভর্তি থাকায় নির্ধারিত জনবল দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি এভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে সামনে মহাবিপদ হতে পারে। এমন তথ্যই জানালেন চিকিৎসকরা।


বিজ্ঞাপন

ঢাকার অতি নিকটবর্তী জেলা হওয়ায় নরসিংদী শহরে লোকসংখ্যা অনেক বেশী। এছাড়া পৌরসভাগুলো জনপ্রতিনিধিহীন হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড না থাকায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

এরফলে হাসপাতালের নির্ধারিত জনবল দিয়ে ভর্তিকৃত রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গুর সংক্রমন দেখা দেয়ার পর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েই সেবা নিয়েছে প্রায় ৯০০ জনের মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী।


বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০৪ জন। যা আগস্টের শেষ সপ্তাহে ছিল ৭২ জন এবং জুলাই মাসে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ছিল ২১ জন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার (৯সেপ্টেম্বর) নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৪৩ জন, সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ এবং মোট ভর্তি রয়েছে ১০৪ জন।


বিজ্ঞাপন

এর আগের দিন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নতুন করে শনাক্ত হয় ২১জন, সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ এবং মোট ভর্তি ছিলেন ১০২ জন। সোমবার (৭সেপ্টেম্বর) শনাক্ত হয়েছিল ৩৭, সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪১, হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ১০৫ জন। গত রোববার(৬ সেপ্টেম্বর)শনাক্ত হয় ৩৫ জন, সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে ৯ জন এবং মোট ভর্তিকৃত রোগী ছিলো ১০৯ জন।

এদিকে নরসিংদীর পৌরসভাগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড না থাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুভার্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা চিকিৎসকদের। এছাড়া বাসা বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় ও নর্দমার ড্রেন পরিস্কারে কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

পলাশ উপজেলা থেকে আরিফুল নামে ৪০ বছর বয়সি এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনদিন আগে। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ডেঙ্গু পজেটিভ পাওয়া গেছে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সকল প্রকার পরীক্ষা ও ঔষধপত্র হাসপাতাল থেকেই পাওয়া গেছে। এখন আগের থেকে ভালো।

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ল্যাব টেকনেশিয়ান শাহ আলম মিয়া বলেন, আগে যেখানে দৈনিক ৫০/৬০জন রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ১৬০ জন রোগীর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ রোগীর মাঝে ডেঙ্গুর নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে সঠিক সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, যে হারে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে সামনে ডেঙ্গুর ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া হাসপাতালে আসা রোগীদের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ রোগী ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা না থাকায় বাড়িতে রেখেই ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে।

👁️ 28 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *