
হাকিকুল ইসলাম খোকন : নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে Medicaid জালিয়াতি ও অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মামলায় এক ডে-কেয়ার মালিককে ৭৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফেডারেল আদালত।

জাকিয়া খান নামের ৫৫ বছর বয়সী ওই নারীকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি আরও ৫০ লাখ ডলার জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাকিয়া খান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কে ।
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, কনি আইল্যান্ড এলাকায় পরিচালিত তাঁর দুটি সামাজিক প্রাপ্তবয়স্ক ডে-কেয়ার এবং একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই জালিয়াতি করা হয়।

২০২৫ সালের আগস্টে খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা ও অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা ঘুষ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, খান হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার এবং ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার-এর মালিক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং নামে একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং জালিয়াতির অর্থ গোপন ও স্থানান্তরের জন্য টানউই সার্ভিসেস নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতেন।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে Medicaid সুবিধাভোগীদের এসব ডে-কেয়ারে ভর্তি করানো হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়ে ভুয়া উপস্থিতির কাগজে স্বাক্ষর করানো হতো। পরে এমন সেবার জন্য Medicaid-এর কাছে বিল পাঠানো হয়, যা প্রকৃতপক্ষে দেওয়া হয়নি।
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দুই ডে-কেয়ার প্রতিষ্ঠান Medicaid-এর কাছে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়। এর মধ্যে Medicaid প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করে। তদন্তকারীদের দাবি, জালিয়াতির অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নগদ করা হয় এবং সেই অর্থের একটি অংশ ঘুষ ও অবৈধ অর্থ প্রদানে ব্যবহার করা হয়।
তদন্তের সময় খানের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও দুটি সম্পত্তিসহ জালিয়াতির অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এগুলোর অংশ হিসেবে মোট ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত হবে।
মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। (তথ্য: ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক প্রসিকিউটরের ওয়েবসাইট)
