ক্যান্সার চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ, চার দফা তদন্তের পরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত জাতীয় ঢাকা বিশেষ প্রতিবেদন রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক   : নিজেকে ক্যান্সার চিকিৎসক ও গবেষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল আলম সরওয়ার ওরফে ডা. এস. এম. সরওয়ারের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চিঠিটি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়।

এতে ডা. সরওয়ারের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্টে গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রচারিত নিয়মিত সংবাদ এবং অপরাধবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এর ৩০৯তম পর্বে ‘ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রতারক’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদন পরবর্তীতেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন

কাউন্সিলের নথিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩-এর ধারা ২০ অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন এবং ওই আইনের ৩৬ ও ৩৭ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ডা. সাইফুল আলম সরওয়ার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্সার রোগ নিরাময় সংক্রান্ত বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার করে যাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ ও অসহায় রোগীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রায় চার দফা তদন্ত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এতগুলো তদন্তের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ক্যান্সারের মতো গুরুতর রোগে আক্রান্ত রোগীদের স্বার্থে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যান্সারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীদের অনুমোদিত ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং চিকিৎসকের যোগ্যতা ও নিবন্ধন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা গবেষক হিসেবে পরিচয় দিলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষজ্ঞ সনদ, সংশ্লিষ্ট পেশাগত নিবন্ধন এবং চিকিৎসা দেওয়ার আইনগত অনুমোদন যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের নথিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য জানা গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে চিহ্নিত না করে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একাধিক তদন্ত ও কারণ দর্শানোর নোটিশের পরও যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে ক্যান্সার আক্রান্ত অসহায় রোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে ক্যান্সার রোগীদের সম্ভাব্য প্রতারণা ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

👁️ 20 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *