বউয়ের পরকিয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা

সারাদেশ

সুমন হোসেন, অভয়নগর : অভয়নগরে এক কুয়েত প্রবাসী জামাই তার স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজের বাড়ি ফিরিয়ে আনতে যেয়ে নিজে লাশ হয়ে ফিরেছে। শুভরাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মীরপাড়া গ্রামের মৃত- সৈয়দ আব্দুস সালাম এর ছোট ছেলে কুয়েত প্রবাসী সৈয়দ আজাদ আলী (৩০) কে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে খাবারের সাথে বিষ জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর মধ্যে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে এমনটি দাবী আজাদের পরিবার পক্ষ থেকে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকালে লাবনী আক্তারের বাড়ির সামনের রাস্তায়। এই হত্যাকান্ডের জন্যে সন্দেহের তীর প্রবাসী সৈয়দ আজাদের স্ত্রী লাবনী আক্তার (২৭) ও তার পরিবারের দিকে। নিহত সৈয়দ আজাদের মিশাল হুসাইন নামের তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আজাদের পরিবারের দাবী তাকে ডেকে নিয়ে খাবারের সাথে বিষ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আজাদের মা মোছাঃ চম্পা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলে। বড় ছেলে সৈয়দ মোশাররফ হোসেন ও ছোট ছেলে সৈয়দ আজাদ কুয়েতে একই স্থানে থেকে চাকুরী করতো। ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বার আমার স্বামী সৈয়দ আব্দুস সালাম মারা যায়। তার পূর্বে ২০০৮ সালের ১৫ডিসেম্বার মাসে ছোট ছেলে আজাদকে ইসলামী শরিয়াত মোতাবেক ফুলতলা উপজেলার পয়গ্রাম গ্রামের মুদি দোকানী মো. নজরুল মোল্যার মেয়ে মোছা. লাবনী আক্তারের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের ১০ বছর পর আজাদের একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। আজাদ কুয়েতে মোটর গাড়ীর ড্রাইভারী করে। সেই সুবাদে আজাদের স্ত্রী লাবনী আক্তার তার পিতার পরিবারের সাথে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরে আজাদের সাথে ভালো ব্যবহার করছে না লাবনী। প্রাই লাবনীর মোবাইল ব্যস্ত থাকে, দেখে আজাদ বাংলাদেশে চলে আসে। একদিন বাড়ির সামনের রাস্তায় একজন অপরিচিত লোকের সাথে লাবনীকে কথা বলতে দেখে আজাদ-লাবনীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারপর থেকে প্রাই পরিবারে সামান্য বিষয় নিয়ে কল্যাহ লেগেই থাকে। তারই ধারাবাহিকতাই বিগত বুধবার বিকালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কল্যাহ করে বাপের বাড়ি চলে যায় লাবনী। লাবনী সোমবার সকালে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যে আজাদকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায় তার বাপের বাড়িতে। দুপুরে লাবনীর মা নাজমা বেগম মোবাইলে জানান আজাদ বিষ খেয়েছে। স্থানীয় ফুলতলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জরুরী দেখে তাকে খুলনা মেডিকেলে রেফার্ড করেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথিমধ্যে আজাদ না ফেরার দেশে চলে যান। আজাদের মা অভিযোগ কওে আরও বলেন, আমার ছেলে আজাদকে পুত্রবধু লাবনী আক্তার ও তার পরিবার জমিজমা এবং অর্থের জন্যে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানোর মাধ্যমে হত্যা করেছে। আমি সন্তান হত্যার বিচার চাই।
আজাদের ছোট বোন বেবি পারভীন বলেন, আমার ভাই ১৭ বছর ধরে কুয়েত প্রবাসী। এই সুযোগে ছোট ভাবি লাবনী আক্তার সব জমিজমা তার নিজের নামে করে নিয়েছে। বাপের বাড়ি যেতে না দেওয়ার জন্য প্রাই লাবনীর সাথে আজাদের কল্যাহ লেগেইে থাকতো। লাবনীর পরকিয়ার সর্ম্পকের কথা আমার ভাই জানতে পারার কারনে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আজাদকে ডেকে নিয়ে খাবারের সাথে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে লাবনী। আমরা ভাই হত্যার বিচার চাই।
নিহত আজাদের খালা ডা. জেসমিন আক্তার বলেন, আজাদের স্ত্রী লাবনীর পরিবার আজাদের নিকট থেকে ধার নেয় ১লক্ষ ৫০হাজার টাকা। এই টাকা চাওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন আজাদকে মেওে ফেলার হুমকি দেয় কিছুদিন পূর্বে। বাস্তু বাড়ির জমি সহ ক্রয়কৃত মোট সম্পত্তির অর্ধেক করে লাবনী কৌশলে আজাদের নিকট থেকে নিজের নামে দলিল করে নিয়েছে। আজাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয় নিয়ে মামলা করা হবে।
আজাদের স্ত্রী মোছা. লাবনী আক্তার বলেন, আমাকে বিগত বুধবার মারপিট করে। তারপর থেকে আমি বাপের বাড়ি থাকি। আমার সাথে আজাদের সাথে কোনো যোগাযোগ হয় নি। আমাদের ৩বছরের মিশাল হুসাইন নামের একটি ছেলে আছে। মিশাল ক্যান্সারে আক্রান্ত ও হেপাটাইটিস-বি পজেটিভ রোগে আক্রান্ত। নিজের ছেলের মাথা ছুয়ে কসম দিয়ে বলছি, আমি আজাদকে বিষ খাওয়ায় নি। সোমবার আজাদ আমাদের বাড়ির সামনে এসে, আমাকে নাম ধরে ডাকে। আমি বাপের বড়ির ছাদে দাড়িয়ে বলি, তুমি চলে যাও। আমি তোমার বাড়ি যাবো না। এই সময় ঘরে ঢোকার দরজাটিও খুলিনি। তাহলে কিভাবে বিষ খাওয়াবো তাকে। সেই সময় আজাদ কি যেন মুখের মধ্যে দিয়ে চলে যায়, আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেন তিনি।
লাবনীর মা নাজমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের সাথে আজাদ খুব খারাপ ব্যবহার করতো। তাদের সংসারে প্রাই কল্যাহ লেগেই থাকে। আমার মেয়ে লাবনী অক্তার নির্দোশ। আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম, শুনেছি আজাদ এসে বাড়ির থেকে দাড়িয়ে লাবনী কে ডেকে কি কথা বলে নিজে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয় নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি শুনেছি। আজাদ নামের একজন কুয়েত প্রবাসী তার বউয়ের সাথে পারিবারিক কল্যাহ করে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।