মনিরামপুরের আব্দুল করিম দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা চাষে ভাগ্যবদল !

অর্থনীতি সারাদেশ

সুমন হোসেন, মনিরামপুর (যশোর) থেকে : যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা চাষ। দীর্ঘদিন ধরে কমলা ও মাল্টা চাষে ভাগ্য বদলকারী এক সংগ্রামী কৃষকের নাম আব্দুল করিম। নতুন করে তিনি দার্জিলিং কমলা লেবু চাষ করে নতুনভাবে সাফল্যর বীজ বুনেছেন। বর্তমানে তিনি এলাকার বেকার যুবকদের অনুকরনীয় কমলা ও মাল্টা চাষী হিসেবে পরিচিতিও লাভ করেছেন। বলছিলাম মনিরামপুর উপজেলার মুজগুন্নী গ্রামের মৃত- আকাম গাজীর ছেলে আব্দুল করিম এর কথা। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তিনি এ বছর ১শ’ ৭২ মণ দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা বিক্রি করেছেন। দেশী এই ফল বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ পেয়েছেন নগদ ৬ লক্ষাধিক টাকা। এদিকে দার্জিলিং কমলা ও মাল্টার চারা বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টি চারা। এজন্য তিনি নতুন করে এ বছর জমি বাড়িয়ে ১৫ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং কমলা লেবুর চাষ শুরু করেছেন। এক সময় শিক্ষিত এই বেকার যুবক আব্দুল করিম সাংবাদিক ও নাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। দীর্ঘদিন বেকারত্বের পর তিনি মঞ্চ নাটক এবং সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে এখন আকাশ চুম্বী স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
আব্দুল করিম এই প্রতিবেদককে জানান, বেকারত্ব জীবন ঘুচাতে প্রথমে ২০০৮ সালে বাড়িতে মুরগি পালনের জন্য খামার গড়ে তোলেন। দুঃখের বিষয় হলো বার্ডফ্লু রোগে তার সব মুরগী আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সেই সাথে করিমের নিজের পায়ে দাড়ানোর স্বপ্নও বিলিন হয়ে যায়। বার্ডফ্লু রোগে এক মাসে মুরগী মরে তার ক্ষতি হয় ৬ লক্ষাধিক টাকা। এরপর তিনি হতাশার জীবন নিয়ে সময় পার করছিলেন। কৃষিবিদ মৃত্যুঞ্জয় রায়-এর অনুপ্রেরণায় মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন আব্দুল করিম। আনুমানিক ৫ বছর আগে খুলনার কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১শ’ ২৫টি মাল্টা এবং মাত্র ২৫টি দার্জিলিং কমলার চারা এনে তিনি চাষ শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে আমার নিজস্ব অর্থ দ্বারা দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা চাষে অর্ধকোটি টাকার প্রজেক্ট করতে সক্ষম হয়েছি। এ বছর আরো ১৫ বিঘা জমিতে নতুন করে মাল্টা এবং দার্জিলিং কমলা চাষ করেছি। এখন এলাকার বেকার যুবকরা আমাকে অনুকরনীয় একজন মানুষ হিসেবে দেখছে।
জানতে চাইলে আব্দুর করিম জানান, আমার মাধ্যমে দক্ষিণ অঞ্চলের বহু শিক্ষিত যুবক এখন আমাকে অনুসরন করছে এবং দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাছে। রীতিমতো আমার নার্সারীতে উৎপাদিত এই ফলের চারা ক্রয় করছে। আমার নিজের তৈরি কম্পোষ্ট সার ক্রয় করে নিয়ে নিজেরা সফলতা অর্জনের চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আমার মত সফলতা লাভের স্বপ্ন দেখতে ইতিমধ্যে শুরু করেছেন। এই ব্যাপারে সরকারিভাবে কোন সহযোগীতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারোর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগীতা নেওয়ার চিন্তা আমার মাথায় কখনো আসে নি। নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা লাভের আশায় কখনও ঋণের দিকেও এগোয় নি। তবে বেসরকারি একটি ব্যাংক কতৃপক্ষ বার বার চেষ্টা করেছেন আমাকে অর্থ সহযোগীতা করার জন্যে। কিন্তু আমি সময়ের অভাবে সে দিকেও যেতে পারেনি।
এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, আব্দুল করিম এখনতো অনেক বেকার যুবকদের এক পথ প্রদর্শকের নতুন মডেল। আরও ভালো করার জন্যে কৃষি অফিস থেকে মঝে মধ্যে কিছু কিছু পরামর্শ তাকে দেওয়া হয়। আমরা তার পাশাপাশি অনেক শিক্ষিত বেকার যুবককে অনুপ্রেরণা যোগাছি। যশোর সহ দেশের বিভিন্ন মানুষ মনিরামপুরের আব্দুল করিমের বাড়ি থেকে দার্জিলিং কমলা ও মাল্টা চাষের জন্যে চারা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে গাছ থেকে পাকা টাটকা ফল ক্রয়ের উদ্দেশ্য আসেন।