বাঙালীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ মুজিবের সাংগঠনিক তৎপরতায় ছিল তাঁর দূরদর্শী রাজনৈতিক সচেতনতা। ফলে তিনি সংগঠনকে মাটি ও মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হন। বাংলার মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি-দাওয়া ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আপোসহীন নিরন্তর আন্দোলন গড়ে তোলেন। একদিকে রাজপথ-জনপদে মিছিল-সমাবেশ সংগঠিত করে জনগণকে অধিকার সচেতনে উজ্জীবিত করে তোলেন, অপরদিকে করাচিতে গণপরিষদে জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ‘পূর্ব বাংলা’ নাম পরিবর্তন করে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ রাখলে তিনি কঠোর সমালোচনা করে ‘বাংলাদেশ’ নামকরণের দাবি করেন এবং বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন।

১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হলে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন। শেখ মুজিবকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব বাংলার মানুষের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবি উত্থাপন করলেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলার মানুষের প্রতি’যে বঞ্চনা ও শোষণের স্টিমরোলার চালাচ্ছিল, ৬-দফা ছিল তার বিরুদ্ধে এক সাহসী সংগ্রাম। ৬-দফা দাবি পরবর্তীকালে ছাত্র-আন্দোলনের ঐতিহাসিক ১১-দফা দাবির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। শেখ মুজিবকে কুখ্যাত আগরতলা মামলায় জড়িয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে বিচার চালানো হয়। কিন্তু ছাত্র-আন্দোলনের রোষানলে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব তাঁকে বিনাশর্তে মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি সংবর্ধনায় শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি ঘোষণা করা হয়। রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছিলেন। এরপর আইয়ুব শাহির পতন হয়, ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় আসে।