বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার বহু চেষ্টা হয়েছে

জাতীয় রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার আয়োজন বহুবার করা হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে সেই চেষ্টা বেশি করা হয়েছে। এই চেষ্টা বহু আগে থেকেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু তিনি তার ভূমিকা, অবদান ও মহিমা নিয়ে জাগ্রত আছেন।’
বুধবার রাজধানীতে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। মুজিবর্ষে বঙ্গবন্ধু লেকচার সিরিজের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসকে বিভিন্ন সময়ে বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একরকম ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা বলা যায়। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ছোট করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর বিশেষ করে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে নিয়ে অসম্ভব মিথ্যাচার হয়েছে। পুরো দেশের ইতিহাসকে পাল্টে ফেলার অপচেষ্টা হয়েছে। সেজন্য জাতি হিসেবে লজ্জাবোধও হয়। কিন্তু এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, যা আজ প্রমাণিত।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মুজিববর্ষে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিমাসে মুজিব লেকচার সিরিজ আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে আমাদের জীবনে ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছেন সেগুলো তুলে ধরা হবে। এতে আমাদের চলার পথ নির্ধারণ করা সহজ হবে। আমি শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, এই মুজিববর্ষে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েদেরকে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষানীতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সম্পর্কে জানানো যায় সেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে। এর মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।’
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এসময় ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকা অবস্থাতেও ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে নির্দেশনা দিয়েছেন। বলা যায়, তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষার অধিকারকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য পুরো জাতিকে সংগঠিত করেছিলেন। তাই বঙ্গবন্ধু তাঁর কীর্তির মতোই মহান।’
এসময় এই মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলনের বিকৃতি রোধে সবাইকে সচেতন হয়ে লড়াই করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন।
আলোচনার শুরুতেই মুজিববর্ষের থিম সং পরিবেশন করা হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এসময় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন।
সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এসময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। এজন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।