জমজমাট হাট

এইমাত্র জাতীয় রাজধানী

রাস্তা দখল করে পশুর হাট, নেই স্বাস্থ্যবিধিও
জবির খেলার মাঠে পশুর হাট!
ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ মেয়র আতিক

বিশেষ প্রতিবেদক: করোনাকালে ঢাকায় পশুর হাট বসাতে বিশেষ নির্দেশনা ছিল দুই সিটি করপোরেশনের। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ১২ দফা সরকারি নির্দেশনাও। কিন্তু কোনো নির্দেশনাই আমলে নেয়নি ক্রেতা-বিক্রেতা এবং ইজারাদাররা। বরং সড়কের দুই পাশ দখল করে একদিকে হাট বসানো হয়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন এবং মাস্ক ও স্যানিটাইজ ছাড়াই চলছে পশুর হাটে বেচাকেনা। রাজধানীর পশুরহাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ন্যূনতম কারও কোনো ধারণা নেই। হাটে আসা বেশিরভাগ লোকের মুখেই মাস্ক নেই। যাদের রয়েছে তাদের বেশিরভাগেরেই থুতনির নিচে। ইজারাদার কর্তৃপক্ষেরও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা থাকলেও কাউকেই দেখা যায়নি।
গত শনিবার থেকে রাজধানীতে পশুরহাট শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিক্রি করতে পারেননি বিক্রেতারা। পরের দিনও গেছে একই হালে। তবে সোমবার ঈদের দুদিন আগে বিক্রি কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। জমজমাট হচ্ছে পশুরহাট।
সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর গোপীবাগ-ধলপুর-মানিকনগর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের মাঝে আর একদিন বাকি থাকায় এখন যেসব ক্রেতা আসছেন, তারা অধিকাংশই পশু কিনে ঘরে ফিরছেন। এ কারণে সোমবার সকাল থেকে বিক্রি বেড়েছে। এদিকে দাম কিছুটা চড়া বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
এদিকে গরুর দাম বেশি হওয়ায় শেষমুহূর্তে দাম কমার অপেক্ষায় রয়েছেন অনেক ক্রেতা। হাট থেকে গরু না কিনে ফিরছেন এমন একজন ক্রেতা বলেন, তিনদিনে হাট এলাম। দাম ধীরে ধীরে কমছে। যত গরু এসেছে, সেই তুলনায় ক্রেতায় কম। শেষ দিন কিনব।
এ হাটে পশুর দাম কমিয়ে বিক্রির জন্য ব্যাপারীদের সঙ্গে কথাও বলছেন হাট ইজারাদাররা। তারা চাচ্ছেন, বিক্রি যেন আরও বাড়ে।
হাটের ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর রাজধানীর পশুর বাজার চড়াদাম নিয়ে শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় সব হাটে পশু আমদানির সংখ্যা গত বছরগুলো থেকে অনেক কম। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্রেতাও কম থাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে না এখন।
এদিকে সোমবার ব্যাপারীরা শঙ্কাও জানিয়ে বলেছেন, করোনার কারণে ক্রেতা উপস্থিতি সরবরাহের তুলনায়ও কম হলে শেষদিন দাম নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে লোকসানের শঙ্কা রয়েছে তাদের।
ব্যাপারীরা জানিয়েছেন, এ বছরও বিক্রির জন্য মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরুগুলো নিয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন বিক্রেতারা।
রাস্তা দখল করে পশুর হাট, নেই স্বাস্থ্যবিধিও!: সোমবার রাজধানীর গোলাপবাগ, মেরাদিয়া, আফতাব নগর, শাহজাহানপুর, দক্ষিণ কমলাপুর, ধোলাইখাল ও ধুপখোলা পশুর হাট ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
গত জুনে যখন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ২৫টি পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা হয় তখন যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল- কোনো সড়ক দখল করা যাবে না এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারেও সড়কের দুই পাশ দখল করা হয়েছে। অন্যদিকে করোনার এই মহামারিতেও কোনো স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
রাজধানীর গোলাপবাগ হাটে ধলপুর-মানিকনগর সড়কটি বন্ধ করে দিয়ে হাট বসানো হয়েছে। হাটটি মানিকনগর পুকুরপাড় পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। মানিকনগর এলাকার আবুল বাশার বলেন, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গরুর হাট বসায় পরিবেশ দুষিত হয়ে পড়ছে। গরুর মলমূত্র আর বৃষ্টির পানি যেন ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে। এ নিয়ে অভিযোগের শেষ না থাকলেও প্রকাশ্যে দু-একজন ছাড়া কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
রাজধানীর রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে মুরগি টোলা মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক হাঁটতে হয়। দেখা যায়, সড়কের দুই পাশের অর্ধেক দখল করে হাট বসানো হয়েছে। বাঁশ, ত্রিপল আর সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে অস্থায়ী ঘর করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে বালুর স্তুপ। পশুর মলমূত্র আর খাবারের উচ্ছিষ্টাংশে সড়কে হাঁটা মুশকিল। এর ওপর সামান্য বৃষ্টির পানি কর্দমাক্ত করে তুলেছে। সব মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিকশা আর গাড়িগুলোকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গরুর ব্যাপারীরা জানান, এলাকায় থাকতেই ইজারাদার কর্তৃপক্ষ ফোন করে গরু আনিয়েছে। আনার পর দেখেন এখানে কোনো মাঠ নেই। বাধ্য হয়েই তারা সড়কের ওপর গরু বেঁধে রেখেছেন। গাড়ির হর্ন আর কোলাহলের কারণে গরু ঘুমাতে পারে না। গরু শুয়ে থাকবে তারও কোনো উপায় নেই। কারণ নিচে মলমূত্র আর কাদা পানি। পশুগুলো সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাদেরও বিশ্রামের প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের সহকারী কাউন্টার ম্যানেজার এনামুল হক জানান, ধোলাইখাল হাটের নির্দিষ্ট কোনো মাঠ না থাকায় সড়কের ওপর পশুর হাট বসানো হয়েছে। সিটি করপোরেশন বিষয়টি জানে। করপোরেশনের কর্মকর্তা হাট পরিদর্শন করে যাওয়ার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন। কোরবানির পরে সড়কে পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হবে।
রাজধানীর মেরাদিয়া হাটেরও একই অবস্থা। দক্ষিণ বনশ্রীর এইচ ব্লাক ও কে ব্লকের মেইন রোডের দুই পাশে গরুর হাট বসানো হয়েছে। গরুর মলমূত্র আর বৃষ্টির পানি যেন নান্দনিক বনশ্রীকে ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে। এ নিয়ে সচেতন বনশ্রীবাসীর অভিযোগের শেষ না থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়।
দক্ষিণ বনশ্রীর বাসিন্দা আকরাম হোসেন বলেন, প্রত্যেকবার সড়ক দখল করে ক্ষমতাসীন দলের ছেলেরা গরুর হাট বসিয়ে থাকে। ঈদ শেষে পরিষ্কার করার কথা থাকলেও ঠিকভাবে করা হয় না। আবার কিছু জায়গায় সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে পরিষ্কার করলেও সড়ক খুঁড়ে একাকার করে যায়। তখন ভাঙ্গা সড়কে অনেকদিন যাতায়াত করতে হয়। যখন সড়ক মেরামত করা হয় ঠিক এর কিছুদিন পর আবারও হাট বসানো হয়। এভাবেই চলছে।
মেরাদিয়া হাটের ইজারাদার কর্তৃপক্ষের সহকারী ম্যানেজার আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা তো বনশ্রীবাসীর জন্যই হাট বসিয়েছি। তাদের হাতের কাছে পশু এনে দিয়েছি। তা না হলে তাদের অনেক দূরে গিয়ে পশু কিনে আনতে হতো। এগুলো বুঝতে হবে সবাইকে।
একই অবস্থা দেখা গেছে আফতাব নগরের হাটেও। আফতাব নগরের বেশ কয়েকটি সড়কে গরু ছাগলের হাট বসানো হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি সড়কের বাসিন্দারা গত কয়েকদিন ধরে সড়কে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। এমনকি প্রয়োজনীয় কাজেও তারা বের হতে পারছেন না।
আফতাব নগরের ৪ নম্বর সড়কের বাসিন্দা আফরোজা বিনতে হাসান বলেন, আমার পরিবারে দুজন লোক অসুস্থ হয়েছিল গত দুদিন আগে। তাদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসতে পারেনি। পরে কোনোরকম ভ্যান ডেকে রোগীকে প্রধান সড়কে নেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সড়ক বাদ দিয়ে পশুর হাট বসালে এরকম হতো না। আজ আমি বিপদে পড়েছি, কাল তো আরেকজনের পড়তে পারে। মেয়রের কাছে অনুরোধ, সড়ক দখল করে যেন পশুর হাট বসানো না হয়।
এদিকে, রাজধানীর পশুরহাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে ন্যূনতম কারও কোনো ধারণা নেই। হাটে আসা বেশিরভাগ লোকের মুখেই মাস্ক নেই। যাদের রয়েছে তাদের বেশিরভাগেরেই থুতনির নিচে। ইজারাদার কর্তৃপক্ষেরও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা থাকলেও কাউকেই দেখা যায়নি।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা পশুর হাট নিয়মিত তদারকি করছেন। নিজস্ব ভলান্টিয়াররা মাস্ক বিতরণ করছেন। মাস্ক ছাড়া হাটে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী কোথাও কোথাও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে কোনো প্রকার ব্যত্যয় ঘটতে দেওয়া হচ্ছে না।’
জবির খেলার মাঠে পশুর হাট! : পুরান ঢাকার ধূপখোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর হাট।
সিটি করপোরেশন বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। তবে লিখিত অভিযোগ ছাড়া ব্যবস্থা নিতে নারাজ তারা।
মূলত ধূপখোলা মাঠ তিন অংশে বিভক্ত। উত্তর-পশ্চিমাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অধীনে। আর পূর্বাংশ ইস্ট এন্ড ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের ডিএসসিসি ও ইস্ট ওয়েস্ট ক্লাবের অংশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশেও সম্প্রসারিত করা হয়েছে হাট। মাঠের বিভিন্ন অংশে করা হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি, পোঁতা হয়েছে বাঁশ, ত্রিপল টানিয়ে গরু রাখা হয়েছে। পশুর বর্জ্যে এবং খোঁড়াখুঁড়িতে খেলার মাঠ বেহাল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ও নিয়মিত খেলোয়াড়রা বলছেন, প্রতি বছরই অবৈধভাবে হাট বসানো হয় খেলার মাঠে। ফলে নষ্ট হয় মাঠের পরিবেশ। এবড়োথেবড়ো হয়ে যাওয়া মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট পরিচালনা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অসমতল মাঠে খেলতে গিয়ে অনেকসময় আহত হন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক গৌতম কুমার দাস বলেন, প্রতিবছরই তারা মাঠে হাট বসায়, খোঁড়াখুঁড়ি করে। মাঠে খেলার মতো পরিবেশ থাকে না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইজারাদারদের হাট সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ মেয়র আতিক : সরকার ঈদের আগে লকডাউন শিথিল করায় ৯টি কোরবানির পশুর হাট বসায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। করোনার ভয়াবহ প্রকোপের মধ্যে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটগুলো পরিচালনার কথা। তবে সার্বিক চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ খোদ ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘গাবতলী হাটে এসে সার্বিক চিত্র আমার কাছে মোটেও ভালো লাগেনি। এটিই হচ্ছে সত্য কথা। এই চিত্র আপনারাও দেখছেন, আমিও দেখছি এবং জনগণও দেখছে।’ পরে তিনি প্রয়োজনে হাট বন্ধ করারও হুঁশিয়ারি দেন।
সোমবার নগরীর গাবতলীতে স্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে যান মেয়র। এসময় তিনি বলেন, এবছরই প্রথম উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯টি হাটে ৯টি এন্টিজেন টেস্ট বুথ বসানো হয়েছে। তাতে তিনজনের শরীরে করোনা ধরাও পড়েছে। এরপরও তারা উদাসীন। এটা সিটি করপোরেশনের হাটে হতে পারে না।
যেসব চুক্তি ও শর্ত অনুযায়ী হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে সেই শর্তগুলো যথাযথ পরিপালন হচ্ছে কিনা তা পরিদর্শন করেন মেয়র। এসময় যারা মাস্ক ছাড়া হাটে প্রবেশ করেছেন তাদের মাঝে মাস্কও বিতরণ করেন তিনি। মাস্ক বিহীন অনেক পশু ব্যবসায়ীকে তিনি মাস্ক পরিয়ে দেন।
হাটের বাইরেও বিভিন্ন পাশে বাঁশ পোঁতা হয়েছিল। সেগুলো সিটি করপোরেশন থেকে ভেঙে দেওয়া হলেও সেখানে এখনও গরু রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, যেসব জায়গার বাঁশ ভেঙে দিয়েছি সেখানেও গরু বাঁধা হয়েছে। তাতেও সমস্যা মনে করি না। সমস্যা হচ্ছে কোনও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। তোমরা (ইজারাদার) স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করো।
নিয়ম অমান্যকারীদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বলা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, আমরা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবো। রোজার ঈদের আগে আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় উত্তরার একটি শপিং মল বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এখনও সেই ব্যবস্থা নিতে পারি।
হাটের এই অব্যবস্থাপনার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটরা রয়েছেন তারাই বলতে পারবেন। তারা কী ব্যবস্থা নেবেন। আইন অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার তারা তাই নেবে। এসময় তিনি একটি হাসিল আদায়ের বুথের চিত্র খারাপ দেখে তাকে জরিমানা করার নির্দেশ দেন।
এবছর কোরবানি পরবর্তী সময়ে শহর পরিষ্কার করার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১১ হাজার কর্মী কাজ করবে বলেও এসময় জানান মেয়র। তিনি বলেন, আমিও কিন্তু মাঠে থাকবো। আমাদের কাউন্সিলররাও মাঠে থাকবেন। সব কর্মকর্তা-কার্মচারীরাও মাঠে থাকবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা শহর পরিষ্কার করবো।
তিনি বলেন, আমাদের অনুমতি না নিয়েই খেলার মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। আমরা পুলিশের ওয়ারী জোনের ডিসি ও গেন্ডারিয়া থানার সহযোগিতায় ইজারাদারদের সাথে কথা বলেছি। তাদের হাট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে হাট বসানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবেরিন বলেন, আমরা হাটের সীমানা উল্লেখ করে হাট বসানোর অনুমতি দিয়েছি। এর বাইরে হাট বসানো হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো হলেও কেন এখনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি‑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। তেমন কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি।