! দুবলার শুঁটকিখাতে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা !!  দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহি!নীর আতঙ্কের ছায়া সমগ্র বনে  !!   সুন্দরবনে জেলেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে,আতঙ্কিত সকল জেলে ও মহাজন! 

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ অর্থনীতি আইন ও আদালত খুলনা গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বানিজ্য বিশেষ প্রতিবেদন সারাদেশ

নইন আবু নাঈম তালুকদার, (শরণখোলা)  :  সুন্দরবনের পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের কালামিয়া এলাকায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে আবারও ঘটল এক ভয়াবহ অপহরণ। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢেউয়ে তলিয়ে থাকা নদীতে মাছ ধরার সময় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা পাঁচ জেলেকে ট্রলারসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন

অপহৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন—কচি (৪৫), হিরক (৩৫), সালাম (৪০), রবিউল (৩৫) ও মুজাহিদ (২৬)। সবাই বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাশতলী এলাকার বাসিন্দা। জেলেদের মহাজন এবং স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নুরুল হক শেখ জানিয়েছেন, রাতভর দস্যুরা জেলেদের মারধর করে ট্রলার থেকে নামিয়ে অন্য একটি নৌকায় তুলে নিয়ে যায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে মোবাইল নম্বর রেখে যায়।

এটি এই মাসের মধ্যে জাহাঙ্গীর বাহিনীর দ্বারা সংঘটিত অপহরণের একটি অংশ।এর আগে ১০ জানুয়ারি কটকার কালামিয়া এলাকা থেকে দু’জন,এবং১৫ জানুয়ারি দুবলার আমবাড়ীয়া এলাকা থেকে আরও দু’জন জেলেকে অপহরণ করা হয়েছিল।তবে এই চারজনের মধ্যে আ.কাদের ও রবিউল মোল্লা কিছুদিনের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন।


বিজ্ঞাপন

স্থানীয় জেলে ও মহাজনরা জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে জাহাঙ্গীর বাহিনী সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও ভয়ঙ্কর। এই অপহরণ ও হত্যার হুমকির কারণে জেলেরা মাছ ধরতে ভয় পাচ্ছেন।দস্যুদের নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির চাপ এতটাই,যে বনেতে যাওয়াই ভীতিকর হয়ে গেছে,বলছেন তারা।


বিজ্ঞাপন

শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলার বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিল্টন রায় বলেন, “বনদস্যুদের দাপটে জেলেরা মাছ ধরতে পারছে না। যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়,এ বছর দুবলার রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন,অপহৃত জেলেদের উদ্ধারের জন্য কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ পরিস্থিতি সুন্দরবনের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। তারা দাবি করছেন, দস্যুদের দমন ও দ্রুত উদ্ধার অভিযান না হলে এ ধরনের অপহরণ আরও বাড়তে পারে, যা শুধু মানুষের জীবন নয়,বনভিত্তিক জীবিকা এবং এলাকায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।##

👁️ 26 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *