
মোঃ সাইফুর রশিদ চৌধুরী : গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ডের পাঁচুড়িয়া-ওয়াপদা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় জননী সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক ডাঃ সুব্রত হালদারের বিরুদ্ধে রাস্তা দখল এবং অনিয়মের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ১ মার্চ রবিবারে জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত ওই অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পাঁচুড়িয়া-বোড়াশী সংযোগ সড়কটি শহরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। ডাঃ সুব্রত হালদার তার ক্লিনিকের পার্শ্ববর্তী রাস্তার মোড়ে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি সংকুচিত করে ফেলেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সরকারি ছুটির দিনে তিনি সেখানে স্থায়ী পাকা দেওয়াল নির্মাণের কাজ চালিয়েছেন। রাস্তার মোড় সংকুচিত হওয়ায় ইতোমধ্যে একাধিকবার মালবাহী যানবাহন ও পথচারীরা পার্শ্ববর্তী খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জননী সার্জিক্যাল ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারের রক্তমাখা বর্জ্য ও অন্যান্য সার্জিক্যাল বর্জ্য সরাসরি পাইপের মাধ্যমে পাশের খালে ফেলা হচ্ছে। এতে খালের পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ছে এবং এলাকায় চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোপূর্বে ওই ক্লিনিকের পাশের ডাস্টবিনে নবজাতকের মৃতদেহ পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আবাসিক ভবনের নিচতলা ও দোতলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্লিনিক স্থাপন এবং আবাসিক হারে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে। এছাড়া সেখানে অবৈধ গর্ভপাতের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও এলাকাবাসী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে হাজী আব্দুল মতিনসহ ১০৪ জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় এই অবৈধ দেওয়াল অপসারণ ও ক্লিনিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশোধন করা জরুরি। অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ মোট ১২টি দপ্তরে প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাঃ সুব্রত হালদারের নিকট ফোন করে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার জায়গায় আমি ওয়াল দিয়েছি।
রাস্তার জায়গায় আমি কোন স্থাপনা বা কোন প্রকার স্থাপনা নির্মান করিনি। তিনি আরো বলেন আমি সব কাগজপত্র পৌরসভায় জমা দিয়েছি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তার একটি অংশের ইট তুলে ফেলে সেখানে তিনি টিনে বেড়া দিয়ছেন। ডাঃ সুব্রত হালদার বলেন উক্ত রাস্তা তার জায়গার মধ্যে। তাই তিনি সেখানে বেড়া দিয়েছেন।
