স্বাস্থ্য বিভাগের বদলি বাণিজ্যে জিম্মি  :  কুড়িগ্রামের ২৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা

Uncategorized অনিয়ম-দুর্নীতি অপরাধ আইন ও আদালত গ্রাম বাংলার খবর জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন রংপুর সারাদেশ স্বাস্থ্য

মোঃ বুলবুল ইসলাম, (কুড়িগ্রাম)  :  স্বাস্থ্য বিভাগের বদলি বাণিজ্যে জিম্মি হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের ২৫ লাখ মানুষ। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালের তিন কর্মচারীকে চার মাসে দু’দফা নাটকীয় বদলির ঘটনায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে। প্রশাসনিক কর্মকান্ডে দেখা দিয়েছে জটিলতা।


বিজ্ঞাপন

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে একটানা ২২ বছর ধরে চাকুরি করে আসছেন প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলী, উচ্চমান সহকারী মো. আকতারুজ্জামান ও স্টোর কিপার মমিনুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন চাকুরির সুবাদে এই তিন কর্মচারী গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তত্ত্বাবধায়ককে জিম্মি, টেন্ডার সিন্ডিকেট, অস্থায়ী নিয়োগ বাণিজ্য, নার্সদের সাথে অসাদাচরণ, ঘুষ কেলেঙ্কারি, ওষুধ চুরি, গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখে ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায়ের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় নিয়ন্ত্রণ করছেন এই তিন কর্মচারী। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতের ঘটনায় বদলি হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসকি কর্মকর্তার আর্শিবাদপুষ্ট হওয়ায় বার বার ফিরে আসছেন এই কর্মস্থলে।


বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা যায়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলীকে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, উচ্চমান সহকারী মো. আকতারুজ্জামানকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ  কমপ্লেক্সে ক্যাশিয়ার পদে গত চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি একযোগে বদলি করেন রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী। যার স্মারক নং-স্বাঃঅধিঃ/ প্রশা-৩/৩য় শ্রেণী-২৬/২০২৬। এছাড়া অনিয়ম দুর্নীতি ও সদর হাসপাতালের সুনাম ক্ষুন্নের অভিযোগে স্টোর মমিনুল ইসলামকে ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোর কিপার পদে বদলি করা হয়।


বিজ্ঞাপন

কিন্তু বদলির চার মাসের মাথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনৈক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শর্ত স্বাপেক্ষে গত চলতি বছরের ১৮ মে আবারো কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে বহাল হন ইউনুছ আলী।

তিনি যোগদানের পরপরই গত ২৯ জুন উচ্চমান সহকারী মো. আকতারুজ্জামানকেও টাকার বিনিময়ে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে স্বপদে শর্ত-স্বাপেক্ষে বদলি করা হয়। এছাড়া মমিনুল ইসলামকে সিভিল সার্জনের বিশেষ পত্রে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই তিন কর্মচারীকে নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদের পর জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের নাটকীয় বদলি বানিজ্য নিয়েও সন্দেহের দানা বাঁধছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত জনৈক কর্মকর্তা বলেন, “কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী ইউনুছ আলী, উচ্চমান সহকারী আকতারুজ্জামান ও স্টোর কিপার মমিনুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন)কে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বদলি হন ওই তিন কর্মচারী। এছাড়া প্রতিটি টেন্ডারের সময় তাদের হাত দিয়েই মোটা অংকের ভাগ নেন পরিচালক স্যার।

যে কারণে ওই দুই কর্মচারী বদলি হলেও বেশিদিন অন্যত্র থাকতে হয় না। দেশব্যাপী বেপরোয়া বদলি বাণিজ্যের মতো কুড়িগ্রামের মানুষও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। প্রধান সহকারী ইউনুছ আলী ও উচ্চমান সহকারী আকতারুজ্জামানের খুঁটি শক্তিশালী বলে যোগ করেন তিনি।”

এ বিষয়ে প্রধান সহকারী মো. ইউনুছ আলী ও স্টোর কিপারকে ফোন দিলে তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।

সদস্য বদলি হয়ে আসা উচ্চমান সহকারী আকতারুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য দিতে পারবো নাই। আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে আমার উর্দ্ধতনকে জিজ্ঞেস করেন।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ওই দুই কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারবো না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিতে আমার কোন হাত নেই। এটা ডিজি অফিস নিয়ন্ত্রণ করেন।

সম্প্রতি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের নথি চুরির বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “যে দুই কর্মচারী হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ নথি বাহিরে নিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী ও অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. জাহিদ রায়হানকে একাধিক ফোন দিলেও রিসিভ করেন নাই। মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

👁️ 27 News Views

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *